নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জুলাই ৷৷ সরকারী চাকুরী রাজ্যের উন্নয়নের মাপকাঠি হতে পারে না৷ কারণ, সকলকে সরকারী চাকুরী দেওয়া সম্ভব নয়৷ তাই, ত্রিপুরা সরকার স্বরোজগার বাড়াতে চাইছে৷ তাতে, আর্থিক প্রগতি নিশ্চিত হবে৷ শনিবার প্রজ্ঞাভবনে প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্পদ যোজনার উপর এক কর্মশালার উদ্বোধন করে এ-কথা বলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ তাঁর কথায়, বর্তমান রাজ্য সরকার প্রথম থেকেই রাজ্যের যুবক-যুবতীদের স্বরোজগারী করার উদ্যোগ নিয়েছে৷ কারণ এন্টারপ্রেণারশিপ উন্নয়ন হলেই রাজ্যে জিডিপি’র হার বাড়বে৷

এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ৪০-৪৫ বছর ধরে রাজ্যের যুবকদের শুধুমাত্র সরকারি চাকুরির উপর নির্ভরশীলতার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল৷ ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে সরকার গঠন হওয়ার পর বেসরকারি ক্ষেত্রগুলিকে এবং মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পের উন্নয়ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে৷ তাঁর কথায়, কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে ন্যুনতম সহায়কমূল্যে কৃষকদের যন্ত্রপাতি, বীজ ইত্যাদি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ রাজ্য সরকারও ২০২২ সালের মধ্যে কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্যে ন্যুনতম সহায়কমূল্যে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয় করা শুরু করেছে৷ তাঁর দাবি, এবছর কৃষকদের কাছ থেকে ২০ হাজার মেট্রিকটন ধানক্রয় করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে৷ তাতে, কৃষকরা উৎসাহিত হয়ে এখন বেশি করে ধানচাষ করছে৷ ফলে, এখন রাজ্যে খালি জমি আর পড়ে থাকে না৷
মুখ্যমন্ত্রীর মতে, কৃষকদের আয় যদি বাড়ানো না যায় তবে রাজ্যের জিডিপি’র হারও বাড়বে না৷ তাই, রাজ্যের বিখ্যাত ক্যুইন আনারসকে দেশ-বিদেশে বাজারজাতকরণের মাধ্যমে কৃষকরা যাতে দ্বিগুণ আয় করতে পারে সেই ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার৷ তাঁর দাবি, বিগত সরকার ২৫ বছর ধরে কৃষক ও কৃষিক্ষেত্রের উন্নয়নে কোন পরিকল্পনা নেয়নি৷ এরফলে কৃষকরা সেই সময় কৃষিকাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলেন৷ কিন্তু, বর্তমান সরকার কৃষকদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে৷
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জোর গলায় দাবি করেন, সরকারি চাকুরি কখনো কোনো রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাপকাঠি হতে পারেনা৷ তাঁর দাবি, বর্তমান রাজ্য সরকার স্বনির্ভর ত্রিপুরা গড়ার লক্ষ্যে দ্বিতীয়বারও ঘাটতিহীন বাজেট তৈরি করেছে৷ শুধু তাই নয়, বাজেটে লক্ষ্য করা গেছে যে রাজ্যের রাজস্ব আয়ও বেড়ে ২৬ শতাংশ হয়েছে যা বিগত সরকারের আমলে ছিল মাত্র ৯.৮ শতাংশ৷ এদিন তিনি রোজগার মানেই সরকারি চাকুরি, এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য রাজ্যের যুবক-যুবতীদের প্রতি আহ্বান জানান৷ সাথে যোগ করেন, ত্রিপুরায় প্রচুর পরিমাণে আনারস, কাঁঠাল, আদা উৎপন্ন হয়৷ এগুলিকে ভিত্তি করে রাজ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট স্থাপন করার জন্য উদ্যোগীদের আরও বেশি করে এগিয়ে আসুন৷ তিনি বলেন, রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটকে শক্তিশালী করলে রোজগার বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সুুযোগ সৃষ্টি হবে৷ তাই, আজকের কর্মশালা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করে উদ্যোগীরা রাজ্যে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটকে উন্নত করতে এগিয়ে আসবেন বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন৷



















