নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৪ মে৷৷ প্রতি বছর বর্ষায় ডুবে যায় রাজধানী আগরতলা ৷ তাই, প্রাক-বর্ষা প্রস্তুতি নিয়েছে পুর নিগম ৷ এদিকে, পুরবাসীর কাছ থেকে বর্জ্য সংগ্রহে কোনও গাফিলতি হচ্ছে না, মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ নিয়ে এমনই প্রতিক্রিয়া দিলেন পুর নিগমের মেয়র ড় প্রফুল্লজিৎ সিনহা ৷
ঘূর্ণিঝড় ফণীর প্রভাবে দু’দিন ধরে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাতে আগরতলায় বনমালীপুর এলাকায় কিছু স্থানে জল জমেছে ৷ এ-বিষয়ে পুর নিগমের মেয়র ড় সিনহার বক্তব্য, প্রাক-বর্ষা প্রস্তুতি জোর কদমে চলছে৷ আগরতলায় জল নিষ্কাশনে ১২টি পাম্প কাজ করছে ৷

সাথে আরও দুটি পাম্প চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ৷ তাঁর কথায়, ইতিমধ্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেশিনের সহায়তায় বিভিন্ন কভার ড্রেইন পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে ৷ তাতে সাফল্য মিলছে বলে দাবি করেন তিনি ৷ ড় সিনহার বক্তব্য, অন্যান্য বছরের তুলনায় ড্রেইন পরিষ্কারে এ-বছর ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে ৷ বিশেষ যে-সব এলাকায় জল নিষ্কাশনী সমস্যা সবচেয়ে বেশি অতি দ্রুততার সাথে ড্রেইন পরিস্কারের কাজ চলছে ৷ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এ-বছর বর্ষায় শহরবাসীকে ভুগতে হবে না ৷
এদিকে, বর্জ্য সংগ্রহ নিয়ে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পুর নিগমের উপর ভীষণ অসন্তুষ্ট ৷ এ-বিষয়ে নিগমের মেয়র ড় প্রফুল্লজিৎ সিনহার দাবি, সারা বছর আগরতলায় প্রত্যেক বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে পুর নিগম ৷ এ-বছর বর্জ্য সংগ্রহে নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে ৷ তাঁর কথায়, সেল্ফ হেল্প গ্রুপের মাধ্যমে এখন বাড়ি বাড়ি বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে ৷ ওই সেল্ফ হেল্প গ্রুপের মহিলাদের অন্তত ১২০ থেকে ১৫০টি বাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৷ প্রতি বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের বদলে ৫০ টাকা করে আদায় করা হয় ৷
ড় সিনহার বক্তব্য, পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে প্রথমে পুর নিগমের ৬টি ওয়ার্ড এলাকায় সেল্ফ হেল্প গ্রুপের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে ৷ তাঁর দাবি, আগামী ২৩ জুনের মধ্যে পুর নিগমের অধীন সমস্ত ওয়ার্ড এলাকা থেকেই এই নতুন পদ্ধতিতে বর্জ্য সংগ্রহ করা হবে ৷ তিনি জানান, এই কাজের জন্য প্রতি মহিলাকে প্রতি দিন ১০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হচ্ছে ৷ একজন মহিলা যতদিন কাজ করবেন ততদিনের মজুরি তিনি পাবেন ৷ তাছাড়া, প্রত্যেক বাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহে ৫০ টাকার পুরোটাই পাবে সেল্ফ হেল্প গ্রুপ ৷ ড় সিনহার দাবি, আগরতলা শহরকে জঞ্জালমুক্ত রাখতে কোনও ত্রুটি রাখছে না পুর নিগম ৷ তাঁর অভিযোগ, বর্জ্য বহনকারী গাড়ি কিছু খারাপ হয়ে গিয়েছে ৷ কিন্তু, অর্থের অভাবে নতুন গাড়ি কিনতে পারেনি পুর নিগম ৷ তবে, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বর্জ্য বহন করার জন্য কয়েকটি গাড়ি ভাড়া নেওয়া হবে ৷ তাতে, চলমান সমস্যাগুলির সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন ৷



















