নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৪ মে৷৷ শিক্ষক পদে অবৈধ নিয়োগের জন্য দোষীদের শনাক্ত করতে তদন্ত কমিশন গঠন করতে চলেছে রাজ্য সরকার৷ সম্ভবত, হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে ওই ঘটনার তদন্ত করা হবে৷ ১০,৩২৩ জন শিক্ষক নিয়োগ অবৈধ বলে চাকরি বাতিল করেছিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট৷ সুপ্রিমকোর্টও হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছে৷ কিন্তু, ওই অবৈধ নিয়োগে প্রকৃত দোষী কে বা কারা, সে-বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, রাজ্য সরকার ওই ঘটনার তদন্ত কমিশন গঠন করবে৷ লোকসভা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় শেষ হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে ত্রিপুরা সরকার৷
রাজ্যে ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা৷

নিয়োগ প্রক্রিয়া অবৈধভাবে হয়েছে, তাই ত্রিপুরা হাইকোর্ট ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের নিয়োগ বাতিল করেছিল৷ বামফ্রন্ট জমানায় ওই ঘটনা গোটা দেশে নাড়া দিয়েছিল৷ পিঠ বাঁচাতে তদানীন্তন বামফ্রন্ট সরকার সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল৷ কিন্তু, সুপ্রিমকোর্ট ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় বহাল রাখে৷ তবে শিক্ষা ব্যবস্থার যাতে কোনও ক্ষতি না হয় তাই, অ্যাডহক ভিত্তিতে চাকরিচ্যুত ওই সব শিক্ষকদের চাকরিতে ২০২০ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বহাল রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল৷
প্রশ্ণ উঠেছে, অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? এ-বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, স্বচ্ছতার সাথে নিয়োগ হোক বিজেপি জোট সরকারের তা প্রথম লক্ষ্য৷ ত্রিপুরায় ১০,৩২৩ শিক্ষক অবৈধভাবে নিয়োগ কীভাবে হয়েছে এবং কারা এর সাথে যুক্ত, তা খুঁজে বের করা খুবই জরুরি৷ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবৈধভাবে শিক্ষক নিয়োগের ঘটনায় ত্রিপুরা সরকার তদন্ত কমিশন গঠন করবে৷ লোকসভা নির্বাচনের পরই কমিশন গঠনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ তিনি জানান, হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে দিয়ে ওই ঘটনার তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে ইতিমধ্যে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে৷
এদিকে, ১০,৩২৩ শিক্ষকদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে তাঁরা ভিষণ চটেছেন৷ এই বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে৷ তাঁর কথায় অবৈধ ভাবে নিয়োগ করা হয়েছিল তাই ১০,৩২৩ শিক্ষকদের আদালত চাকুরী বাতিল করে দিয়েছে৷ তবুও, মানবিকতার খাতিরে এখনও ১০,৩২৩ শিক্ষকদের জন্য আদালতে লড়াই জারি রেখেছে রাজ্য সরকার৷ তিনি বলেন, তাঁদের প্রতি সমবেদনা রেখেই রাজ্যে নতুন সরকার গঠন হওয়ার পর আদালতে মামলা পরিচালনায় এখন পর্যন্ত ৭২ লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে৷ আগামী ১০ মে পুণরায় সুপ্রিম কোর্টে ওই মামলায় শুনানী হবে৷ সম্ভবত ওইদিন শুনানী নাও হতে পারে৷ কারণ, সুপ্রিম কোর্টে গ্রীষ্মকালীন ছুটি শুরু হওয়ার আগের দিন ওই শুনানী তারিখ ধার্য্য হওয়ায় তা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে৷
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১০,৩২৩ শিক্ষকদের জন্যই কেন্দ্রে দরবার করে এককালীন ছাড় আদায় করা হয়েছে৷ তাঁরা এখন টেট পরীক্ষায় বসতে পারবেন৷ তবুও ১০,৩২৩ শিক্ষকরা আসল দোষীদের বদলে বর্তমান রাজ্য সরকারকেই দোষারোপ করছেন৷



















