পাটনা, ৮ অক্টোবর (আইএএনএস): বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর-এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার পাটনায় মহাগঠবন্ধনের মিছিল ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব, আরজেডি সাংসদ মিসা ভারতী এবং ভিআইপি প্রধান মুকেশ সাহানিকে আটক করা হয়।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভকারীদের লোকভবনের দিকে এগিয়ে যাওয়া ঠেকাতে পাটনার বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড তৈরি করেছিল পুলিশ।
মিছিলের সময় তেজস্বী যাদব একটি ব্যারিকেডের ওপর উঠে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। সেই সময় পুলিশকর্মীদের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। পরে তেজস্বী, মিসা ভারতী এবং মুকেশ সাহানিকে আটক করে পুলিশ। আটক নেতাদের পরে লোকভবনে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা ছিল মহাগঠবন্ধনের প্রতিনিধিদলের।
বিক্ষোভে তেজস্বী যাদব বলেন, বিরোধীদের প্রধান দাবি হল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। বিক্ষোভের সময় সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের বিক্ষোভকে ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তেজস্বী আরও দাবি করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে বিপুল সংখ্যক ভোটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এই বিষয়ে বিরোধীরা বারবার নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে এবং কমিশনের কাছ থেকে জবাব চাইছে বলেও জানান তিনি।
বিক্ষোভের সময় কয়েকজন মহাগঠবন্ধন নেতা পুলিশের এক এসডিপিও-র গাড়ির ওপর উঠে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মুকেশ সাহানি দাবি করেন, ধস্তাধস্তির সময় তাঁর একটি আঙুলে চোট লেগেছে। ইন্ডিয়া ইনক্লুসিভ পার্টির নেতা আইপি গুপ্তারও অভিযোগ, পুলিশের লাঠি তাঁর পেটে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। তবে এই অভিযোগগুলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পাটনার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও যানজটের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগে থেকেই বিস্তৃত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানোর পাশাপাশি জলকামানের গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয় এবং বিপুল সংখ্যক বিহার পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
লোকভবনের দিকে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা ও সংবেদনশীল এলাকায় বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। নির্ধারিত নিরাপত্তা পরিধি যাতে ভাঙা না হয় এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, সে বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়।
রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আটক নেতাদের লোকভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিনিধিদলের সঙ্গে রাজ্যপালের সাক্ষাতের পর পরবর্তী পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে জানা গেছে।



















