আগরতলা, ৭ অক্টোবর: কৈলাসহরসহ গোটা ত্রিপুরায় ভয়ভীতি দেখিয়ে বেআইনিভাবে চাঁদা আদায়ের অভিযোগের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার পাশাপাশি এবার পুজোর চাঁদা আদায় নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুললেন ৫৩-কৈলাশহর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিরজিৎ সিনহা। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের কর্মী ও আধিকারিকদের উপর চাপ সৃষ্টি করে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা আদায়ের অভিযোগ তুলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তিনি।
বিধায়ক বিরজিৎ সিনহা বলেন, কৈলাশহরপুরে প্রতি বছর বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয় এবং সেখানে বড় পুজোর আয়োজন হয়। সাধারণ মানুষও সেই পুজোয় অংশ নিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। কিন্তু সম্প্রতি তাঁর কাছে এই পুজোকে কেন্দ্র করে চাঁদা আদায়ের বিষয়ে একটি গুরুতর অভিযোগ এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, মহকুমা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক ও কর্মীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন দফতরকে অর্থ দেওয়ার জন্য ‘প্রেসারাইজ’ করা হচ্ছে এবং কর্মীদের কাছেও নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রত্যেক কর্মচারীকে দুই হাজার টাকা করে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা না দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দফতরের জন্য পাঁচ লক্ষ থেকে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও তাঁর কাছে খবর এসেছে বলে দাবি করেন বিধায়ক।
এই ধরনের চাপ সৃষ্টি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগকে অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন বিরজিৎ সিনহা। তাঁর বক্তব্য, প্রশাসনের কর্মী-আধিকারিকদের উপর এভাবে চাপ সৃষ্টি করা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিধায়ক বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা প্রতিবছর ওই পুজোয় উপস্থিত হন এবং মণ্ডপ উদ্বোধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাই গোটা বিষয়টি তিনি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনছেন। তাঁর অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট ক্লাবের পক্ষ থেকে চাঁদা আদায়ের নামে যে ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা সাধারণ মানুষের সহ্যের সীমা অতিক্রম করছে।
























