নয়াদিল্লি, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): নির্বাচন কমিশন (ইসিআই) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়া জোটের প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে কংগ্রেস ও বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি। বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র সম্বিত পাত্র অভিযোগ করেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিশানা করে একটি ‘পরিকল্পিত’ আক্রমণ চালানো হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
নয়াদিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে পাত্র অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধীকে ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যে কংগ্রেস ও তার সহযোগীরা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার ইন্ডিয়া জোটের বিক্ষোভের সময় নির্বাচন কমিশনকে ইস্যু করে দেশে ‘অরাজকতার পরিবেশ’ তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে।
পাত্র বলেন, রাহুল গান্ধীকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার একাধিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর এখন বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, এর জন্য গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে আক্রমণ করা হচ্ছে।
বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এস আই আর নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ তুলে বিজেপি নেতা অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে ‘ভুল ধারণা ও ভুয়ো খবর’ ছড়ানো হচ্ছে। তিনি রাহুল গান্ধীর সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের উল্লেখ করে দাবি করেন, সেখানে ফর্ম ৬ নিয়ে একাধিক বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
পাত্রের দাবি, রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন যে ফর্ম ৬ বেআইনিভাবে এবং একতরফাভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিজেপি মুখপাত্র বলেন, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টে ফর্ম ৬ সংক্রান্ত শুনানির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন পাত্র। তাঁর দাবি, প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট করেছেন যে আদালত ফর্ম ৬-এর কোনও পরিবর্তন অনুমোদন করেনি এবং সংশ্লিষ্ট নথি আদালতে পেশ হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
পাত্র আরও বলেন, এস আই আর-এর সঙ্গে যুক্ত ফর্ম ৬-এর ঘোষণাপত্র নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল এবং ভোটার তালিকা পরিশুদ্ধ ও নির্ভুল রাখার জন্য সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ নিয়েও কংগ্রেসের অবস্থানকে প্রশ্ন করেন পাত্র। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সিইসি পদে নিযুক্ত হন। তার আগে ২০১৪, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন-সহ একাধিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পাত্র একইসঙ্গে প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ভি কে সম্পতের নিয়োগের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকে প্রশ্ন করেন, ২০১২ সালে ইউপিএ সরকারের আমলে নিযুক্ত সম্পত ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় সিইসি ছিলেন এবং সেই নির্বাচনের পর বিজেপি কেন্দ্রে সরকার গঠন করেছিল। তাঁর প্রশ্ন, সেই সময় কি কংগ্রেস একই ধরনের প্রশ্ন তুলেছিল?
বিজেপি মুখপাত্র আরও বলেন, দেশের মানুষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন এবং তাঁরা বংশবাদী রাজনীতি ও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যাখ্যান করবেন।
























