ধর্মনগর, ২৩ সেপ্টেম্বর: এডিসি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচারের আবহেই ধর্মনগর বিজেপির অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এল। বুধবার ধর্মনগর বিজেপি জেলা কার্যালয়ের ভেতরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, মারামারি এবং চেয়ার ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনায় বিধায়ক জহর চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মুন্না পাল, মিহির কান্তি দেব ও নবারুণ নাথ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। পরে তাঁদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত এডিসি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় প্রচারকে ঘিরে বলে জানা গেছে। দলীয় সূত্রের খবর, কাঞ্চনপুর মহকুমার লালজুড়ি এলাকায় বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে যাওয়ার কথা ছিল বিধায়ক জহর চক্রবর্তীর সহধর্মিণী বর্ণালী গোস্বামীর। সেই উদ্দেশ্যে ধর্মনগর বিজেপি জেলা কার্যালয়ের সামনে তাঁদের গাড়ি এসে থামে।
অভিযোগ, বর্ণালী গোস্বামীর সঙ্গে থাকা মুন্না পাল, মিহির কান্তি দেব ও নবারুণ নাথ দলীয় কার্যালয়ে উত্তরীয় নিতে প্রবেশ করেন। সেখানেই তাঁদের সঙ্গে প্রথমে বচসা এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, ধর্মনগর মণ্ডল সভাপতি শ্যামল নাথের নেতৃত্বে এবং প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন তাঁদের উপর হামলা চালান।
অভিযোগ অনুযায়ী, মুন্না পাল, মিহির কান্তি দেব ও নবারুণ নাথকে দলীয় কার্যালয়ের একটি কক্ষে ঢুকিয়ে মারধর করা হয়। তাঁদের উপর চেয়ার ও লাঠিসোটা দিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগও উঠেছে। ঘটনায় তিনজনই আহত হন। পরে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে তাঁদের উদ্ধার করতে জেলা কার্যালয়ে ছুটে আসেন বিধায়ক জহর চক্রবর্তী ও তাঁর সহধর্মিণী বর্ণালী গোস্বামী। অভিযোগ, তাঁদের উপস্থিতিতেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিধায়ক ও তাঁর স্ত্রীকে হেনস্থা করার পাশাপাশি তাঁদের দিকে এগিয়ে এসে আক্রমণের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ফের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি শুরু হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দলীয় জেলা কার্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রকাশ্যে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় ধর্মনগরের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই ধর্মনগর বিজেপির অন্দরে বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে মতবিরোধ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ রয়েছে। তবে এদিনের ঘটনা সেই অভ্যন্তরীণ বিরোধকে আরও প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। এডিসি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রচার যখন তুঙ্গে, তখন জেলা কার্যালয়ের ভিতরেই বিজেপির দুই পক্ষের এই সংঘর্ষ নতুন করে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধর্মনগরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনায় দলীয় নেতৃত্ব কী পদক্ষেপ নেয় এবং উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসনিক বা আইনগতভাবে কোনও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় কি না।
























