নয়াদিল্লি, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতে রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি বৃদ্ধির মূল কারণ মূল্যছাড় নয়, বরং পশ্চিম এশিয়ায় সরবরাহের ব্যাঘাত। একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত প্রতি মাসে গড়ে ৬ কোটি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে। FY23-26 সময়কালে মাসিক গড় আমদানির পরিমাণ ছিল ৪.৬ কোটি ব্যারেল।
অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ইকোনমিক রিসার্চের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ভারত মোট ২৯.৮ কোটি ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে ভারতের আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের ঝুড়িতে রাশিয়ার অংশ শূন্য থেকে বেড়ে ৩০ শতাংশ হয়েছিল। সে সময় এর পেছনে মূল্যছাড়ের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত প্রায় ১০ লক্ষ ব্যারেল আমদানির বিষয়টি শুধুমাত্র দামের ওঠানামা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে পশ্চিম এশিয়ার তেলের তুলনায় রুশ অপরিশোধিত তেলের গড় ছাড় প্রতি ব্যারেলে ৩ থেকে ৫ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে। এমনকি রুশ তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭ ডলার পর্যন্ত বেশি থাকা সত্ত্বেও ভারতের অপরিশোধিত তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশ বেড়েছে। অতিরিক্ত ৬ থেকে ৮ কোটি ব্যারেল তেল যদি ভারতকে স্পট মার্কেট থেকে কিনতে হতো, তাহলে বর্তমানের তুলনায় তেলের দাম আরও বেশি হতে পারত বলেও রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যাচ্ছে, অত্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি বাস্তবে শুল্ক আরোপের তুলনায় বাণিজ্য আলোচনায় বেশি কার্যকর দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। অন্যদিকে, তেলের দাম বৃদ্ধি মার্কিন খুচরো মূল্যস্ফীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানরা ইতিমধ্যেই চাপের মুখে রয়েছে।
অ্যাক্সিস ব্যাঙ্কের রিপোর্টে বলা হয়েছে, কংগ্রেসের সমর্থন শুল্কের হুমকিকে আইনি দিক থেকে আরও স্থায়ী করতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত উৎপাদন ক্ষমতা সংক্রান্ত সেকশন ৩০১-এর সিদ্ধান্তগুলি শুল্কের ক্ষেত্রে অস্থিরতা বাড়াতে পারে। ভারতের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট IEEPA-এর অধীনে শুল্ক বাতিল করার আগে যে ১৮ শতাংশ সামগ্রিক হার নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল, সেটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর ছাড় বা অব্যাহতির কারণে কার্যকর শুল্কের হার সাধারণত ঘোষিত বা মূল হারের তুলনায় কম হয়ে থাকে।
চলতি অর্থবর্ষে এখনও পর্যন্ত ভারতের রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ শতাংশ বেড়েছে। ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল ও যন্ত্রাংশ, ধাতু এবং পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। একই সঙ্গে আমেরিকায় ভারতের রপ্তানিও পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে।
আইএএনএস
























