বিজয়ওয়াড়া, ২১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ায় শিক্ষক নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষা মন্ত্রী নারা লোকেশের পদত্যাগের দাবিতে ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির (ওয়াইএসআরসিপি) বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সোমবার স্পোর্টস অথরিটি অব অন্ধ্রপ্রদেশ (এসএএপি) দফতরের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। ওয়াইএসআরসিপির বিক্ষোভের পাল্টা প্রতিবাদে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা সেখানে অবস্থান নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ক্রীড়া কোটায় শিক্ষক নিয়োগে কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে এসএএপি দফতরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ওয়াইএসআরসিপি। দলের দাবি ছিল, শিক্ষা মন্ত্রী নারা লোকেশকে পদত্যাগ করতে হবে এবং ‘মেগা ডিএসসি’ শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে পূর্ণাঙ্গ সিবিআই তদন্ত করতে হবে।
অন্যদিকে, ক্রীড়া কোটায় নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকরা ওয়াইএসআরসিপির অভিযোগকে ‘মিথ্যা প্রচার’ বলে পাল্টা প্রতিবাদে সামিল হন। নিজেদের অবস্থান জানাতে এবং এসএএপি কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিতে তারা দফতর চত্বরে পৌঁছান।
দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রায় হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে এলাকায় উত্তেজনা বজায় ছিল। শিক্ষকরা এসএএপি চত্বরের ভিতরে থাকলেও ওয়াইএসআরসিপি নেতাকর্মীরা মূল গেটের বাইরে বিক্ষোভ করছিলেন। সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ গেট বন্ধ করে দেয় এবং ওয়াইএসআরসিপির বেশ কয়েকজন নেতা ও কর্মীকে আটক করে।
ওয়াইএসআরসিপির অভিযোগ, শাসক তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি)-র কর্মীরা শিক্ষকের ছদ্মবেশে তাদের কর্মীদের উপর হামলা চালান। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বিক্ষোভকারীদের এসএএপি দফতরের দিকে যেতে বাধা দেয়। লাব্বিপেট এলাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মীকে আটক করে বলে দলটির অভিযোগ।
ওয়াইএসআরসিপি নেতারা দাবি করেন, তাদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ ছিল। শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্তের পরিবর্তে কেন সরকার পুলিশি শক্তি প্রয়োগ করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
দলের পিএসি সদস্য তথা প্রাক্তন ভিনুকোন্ডা বিধায়ক বোল্লা ব্রহ্মনাইডু বিক্ষোভে যোগ দিয়ে মেধাবী ও যোগ্য ডিএসসি প্রার্থীদের স্বার্থে প্রকৃত তথ্য সামনে আনতে পূর্ণাঙ্গ সিবিআই তদন্তের দাবি জানান।
ওয়াইএসআরসিপির অভিযোগ, টিডিপির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি শিক্ষকের পরিচয় দিয়ে এসএএপি চত্বরে ঢুকে লাঠি নিয়ে তাদের কর্মী ও ছাত্র শাখার নেতাদের উপর হামলা চালান। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। সংঘর্ষ ঠেকাতে পুলিশ ব্যর্থ হয়েছে এবং উল্টে তাদের কর্মীদের উপরই শক্তি প্রয়োগ করেছে বলেও অভিযোগ ওয়াইএসআরসিপির।
এদিকে, বিভিন্ন জেলা থেকে বিজয়ওয়াড়ার উদ্দেশে রওনা হওয়া ওয়াইএসআরসিপি নেতাদেরও পুলিশ আটক করে বলে দলটির দাবি। প্রাক্তন মন্ত্রী অম্বাতি রামবাবু, বনমা বালা বজ্রবাবু, অম্বাতি মুরলীকৃষ্ণ, নুরি ফাতিমা-সহ কয়েকজনকে কাজা টোল প্লাজার কাছে আটক করে পেদাকাকানি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। ডিএসসি বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার পর জাক্কামপুডি রাজা, পেরনি কৃষ্ণমূর্তি, নাগার্জুন যাদব-সহ কয়েকজনকে কৃষ্ণলঙ্কা থানায় আটক করা হয়।
ওয়াইএসআরসিপির মুখপাত্র কোন্ডা রাজীব বলেন, শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে প্রার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরিবর্তে জোট সরকার পুলিশি শক্তি ব্যবহার করে দলের নেতা-কর্মীদের আটক করছে। তাঁর প্রশ্ন, “অন্ধ্রপ্রদেশে গণতান্ত্রিক শাসন চলছে, নাকি স্বৈরাচারী ‘রেড বুক’ শাসন চলছে?”
তিনি অভিযোগ করেন, জোট সরকার তথ্য-প্রমাণ এড়িয়ে যাওয়া, ভিন্নমত পোষণকারীদের ভয় দেখানো এবং হিংসার আশ্রয় নেওয়ার পথ অনুসরণ করছে। তাঁর দাবি, এই ধরনের দমন-পীড়নের মাধ্যমে সত্যকে চাপা দেওয়া যাবে না। যোগ্য ও মেধাবী প্রত্যেক প্রার্থী ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত এবং অনিয়মে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
—আইএএনএস



















