আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর: আসন্ন টিটিএএডিসি ভিলেজ কমিটি সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলাজুড়ে নিষেধাজ্ঞামূলক বিধিনিষেধ জারি করল জেলা প্রশাসন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভিলেজ কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অবৈধ জমায়েত, নগদ অর্থ, উপহার ও মদ বিতরণসহ শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কার্যকলাপ রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা শাসক ও জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার, আইএএস ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ১৬৩ ধারায় এই নির্দেশ জারি করেছেন। ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে জারি করা এই নিষেধাজ্ঞা ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলায় ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে নগদ টাকা, উপহার বা মদ বিতরণ, বেআইনি জমায়েত এবং শান্তি ও জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করাই এই নির্দেশের মূল উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।
নির্দেশে বলা হয়েছে, পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ থাকবে। জমায়েতে অস্ত্র থাকুক বা না থাকুক, লাঠি, লোহার রড, বাঁশ, পাথরসহ অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে এমন কোনও বস্তু বহন করে জমায়েত করা যাবে না।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন স্থানে জনসভা, মিছিল, সমাবেশ ও প্রকাশ্য বক্তৃতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। লাউডস্পিকার ব্যবহার করে কোনও ধরনের জনসমাবেশ বা প্রচারও এই সময়ের মধ্যে করা যাবে না।
ভোটকেন্দ্রের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের এলাকাতেও বিশেষ বিধিনিষেধ জারি থাকবে। একইভাবে দুই বা তার বেশি মোটরসাইকেল কিংবা যানবাহন একসঙ্গে এমনভাবে চলাচল করতে পারবে না, যা বেআইনি জমায়েতের পর্যায়ে পড়ে।
তবে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে যাওয়া ভোটার, নির্বাচনী কর্মী, নির্বাচনী কাজে নিযুক্ত সিএপিএফ ও পুলিশ কর্মী, সরকারি কাজে নিয়োজিত কর্মচারী, বৈধ অনুমতিপত্রধারী সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের এই বিধিনিষেধের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। নির্বাচনী কাজে ব্যবহৃত অনুমোদিত যানবাহনও চলাচল করতে পারবে।
ভোটাররা নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবেন। তবে সেই গাড়িতে শুধুমাত্র পরিবারের সদস্যদের নেওয়া যাবে, অন্য ভোটারদের পরিবহণ করা যাবে না।
পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিবাহ ও অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে।
অনুমোদিত প্রার্থীদের মোটরকেড এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত অন্যান্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও ছাড় রাখা হয়েছে। ভোটারদের জন্য পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভোটারদের জন্য হুইলচেয়ার ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থাও চালু রাখা যাবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাধারণ জনজীবন ব্যাহত করা এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য নয়। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা এবং নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই এর মূল লক্ষ্য।
নির্দেশ অমান্য করলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ২২৩ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জেলা প্রশাসনের নির্দেশে উল্লেখ করা হয়েছে।


















