নয়াদিল্লি, ২১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ইতালির স্কুলগুলিতে বোরখা ও নিকাব পরার ওপর প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে ইসলামি ধর্মীয় পণ্ডিত মুফতি ওয়াজাহাত কাসমি বলেছেন, কোনও দেশ নিজেদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যে পদক্ষেপকে প্রয়োজনীয় বলে মনে করবে, সেই দেশের আইনকে সম্মান করা উচিত।
কাসমি বলেন, “প্রতিটি দেশ যদি নিজেদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে আমাদের সেই দেশের আইনকে সম্মান করা উচিত। ইতালি যদি এমন আইন তৈরি করে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই তাদের দেশের পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই তা করা হয়েছে। তাই আমরা সেটিকে সম্মান করব।”
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রবিবার তাঁর দল ব্রাদার্স অব ইতালির (FdI) যুব শাখার একটি সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে স্কুলে বোরখা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি, একটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত শিক্ষা সংস্কারের আওতায়, যেসব বিদেশি পড়ুয়ার বাবা-মায়ের ইতালির স্কুল ব্যবস্থার সঙ্গে একীভূত হতে ‘গুরুতর সমস্যা’ রয়েছে বলে বিবেচিত হবে, তাঁদের জন্য ইতালীয় ভাষা শেখার ক্লাস বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে। সরকার এই পদক্ষেপগুলিকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং বিদেশি পড়ুয়াদের একীভূতকরণের সঙ্গে যুক্ত করে দেখিয়েছে।
ইতালিতে আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে অভিবাসন ইস্যু রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিকে, দিল্লির যন্তর মন্তরে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ডের প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচি স্থগিত হওয়া নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান কাসমি। তিনি সংগঠনটির বিভিন্ন কার্যকলাপের সমালোচনা করেন।
কাসমির অভিযোগ, “পার্সোনাল ল’ বোর্ড এমন কোনও সংগঠন নয়, যাকে এই ধরনের কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া উচিত।” তাঁর দাবি, তিন তালাক থেকে ওয়াকফ বিল পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে সংগঠনটি মুসলিমদের উসকানি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পার্সোনাল ল’ বোর্ডের কয়েকজন সদস্যকে তিনি প্রকাশ্যে আনতে চান, যাঁরা তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে মুসলিমদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে উসকানি দিয়েছেন। কাসমির বক্তব্য, এটি এমন এক ধরনের রাজনীতি যা ঘৃণা ছড়ায় এবং তা উপযুক্ত নয়। তাঁর মতে, এই কারণে সংগঠনটিকে কোথাও কর্মসূচি করার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।
যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত কর্মসূচি ঘিরে সংবাদ সম্মেলন করে পরিবেশ উত্তপ্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি এবং এই ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন।
–আইএএনএস



















