শিলিগুড়ি, ২১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে আসন্ন উপনির্বাচন নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, বাংলায় নির্বাচনকে উৎসবের মতো করে দেখা হয় এবং উপনির্বাচনের ফল কী হতে চলেছে, তা মানুষ ইতিমধ্যেই জানেন।
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গণনা হবে ৯ অক্টোবর।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, বাংলায় মানুষ প্রতিটি নির্বাচন নিয়েই যথেষ্ট আগ্রহী। বিশেষ করে সংবাদমাধ্যম নির্বাচনের বিষয়টিকে এমনভাবে তুলে ধরে যে তা বড় কোনও উৎসবের রূপ নেয়। তাঁর কথায়, উপনির্বাচনকে ঘিরেও উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে এবং সবাই নিজেদের মতো করে লড়াই করছে। চূড়ান্ত ফল কী হবে, তা মানুষ ইতিমধ্যেই জানেন বলেও দাবি করেন তিনি।
বিরোধী জোটের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন দিলীপ ঘোষ। তিনি জানতে চান, ‘ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্স’ এখন কোথায়। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, যে জোট তৈরির কৃতিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়েছিলেন, সেই জোটের এখন অস্তিত্ব কোথায় তা স্পষ্ট নয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠন নিয়েও একাধিক দাবি করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, দলের অ্যাকাউন্ট, প্রতীক ও কার্যালয় নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং এখন প্রার্থীদের নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে লড়াই করতে গেলে সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সিপিআই(এম)-এর কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, সিপিআই(এম)-এর সাংগঠনিক শক্তি এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। দলীয় কার্যালয় নিয়ে ওঠা অভিযোগকে ঘিরেও তিনি কটাক্ষ করেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই বলেও দাবি করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে গত চার-পাঁচ বছরে নানা ওঠানামা সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল রাখতে সরকার কাজ করেছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার প্রসঙ্গ তুলে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, অন্যান্য দেশে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও ভারতে তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এর আর্থিক চাপ সরকার বহন করেছে।
এই পরিস্থিতিতে ৭.৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধিকে তিনি সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এমন পরিস্থিতিতে এই ধরনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন হলেও প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্বে তা সম্ভব হয়েছে।
—আইএএনএস



















