কলকাতা, ২১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে তৎকালীন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা থেকে দুই প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) নেতাকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ। সোমবার পুলিশ সূত্রে এই খবর জানানো হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এক পুলিশ আধিকারিক জানান, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার মহকুমার অন্তর্গত মগরাহাট পশ্চিম এলাকা থেকে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, এলাকায় দু’জনেই প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই দু’জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। এছাড়াও বাইক বাহিনী নিয়ে এলাকায় দাদাগিরি চালানোর অভিযোগও তাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে। নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনাতেও তাঁরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ।
তবে নাড্ডার কনভয়ে হামলায় তাঁদের নির্দিষ্ট ভূমিকা সম্পর্কে পুলিশ আধিকারিক বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি বলেন, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনায় তৎকালীন বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার কনভয়ে দু’বার হামলার অভিযোগ ওঠে। সেদিন ডায়মন্ড হারবারে একটি সভায় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন নাড্ডা। পথে প্রথমে উস্তির সিরাকোলে এবং পরে ফলতার দোস্তিপুরে তাঁর কনভয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। দু’টি এলাকাই ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।
ওই ঘটনায় নাড্ডার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। সে সময় উস্তি থানার পুলিশও বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছিল।
হামলার সময় নাড্ডার সঙ্গে রাজ্য বিজেপির তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের মধ্যে দিলীপ ঘোষ এবং সুকান্ত মজুমদারও ছিলেন। বর্তমানে দিলীপ ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত বিষয়ক ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী এবং সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
ঘটনাটি সে সময় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। বিজেপির অভিযোগ ছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের, বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উসকানির পরেই ওই হামলা হয়েছিল। তৃণমূল অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল।
নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়েছিল। ঘটনাস্থলে হিংসা এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়েও দুই পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ তুলেছিল।
–আইএএনএস



















