জয়পুর, ২১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): রাজস্থানের পুরসভা নির্বাচনে অজমের ও পালিতে বেশি সংখ্যক কাউন্সিলর জিতেও মেয়র পদে হেরে গেল কংগ্রেস। দুই পুরসভাতেই মেয়র পদ দখল করেছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিকানের পুরসভায় কংগ্রেস নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং অনিল কাল্লা মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন।
অজমেরে বিজেপির অনামিকা শর্মা ৪৩ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ৮০টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি ৩২টি আসনে জয় পেলেও কংগ্রেস ৩৭টি আসন জিতে বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এসেছিল। এছাড়া ১১ জন নির্দল কাউন্সিলর জয়ী হন। মেয়র নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ৪১ ভোট।
পালিতে বিজেপির নমিতা বুবাকিয়া ৩৩ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। সেখানে বিজেপি ২১টি কাউন্সিলর আসনে জয় পায়, আর কংগ্রেস ২৯টি আসন নিয়ে বৃহত্তম গোষ্ঠী ছিল। কংগ্রেস প্রার্থী সুমিত্রা জৈন পান তিনটি ভোট। পালিতে ১৫ জন নির্দল কাউন্সিলর থাকায় মেয়র নির্বাচনে তাঁদের সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
উদয়পুরেও মেয়র পদে জয় পেয়েছে বিজেপি। দলের পরশ সিংভি নির্বাচিত হন। ৮০টি ওয়ার্ডের মধ্যে বিজেপি ৫৩টি আসনে জয় পেয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।
আলওয়ারে বিজেপির সুমনলতা আগরওয়াল ৪২ ভোট পেয়ে কংগ্রেস প্রার্থী কমলেশ শর্মাকে পরাজিত করেন। শর্মা পান ২৩ ভোট। অন্যদিকে, বিকানেরে প্রাক্তন মন্ত্রী বি ডি কাল্লার ভাইপো এবং কংগ্রেস নেতা অনিল কাল্লা মেয়র নির্বাচিত হন। ৮০টি ওয়ার্ডের মধ্যে কংগ্রেস ৪২টি আসনে জয় পেয়ে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।
বারান জেলার আত্রু পুরসভায় কংগ্রেসের নিশা নৈনওয়াল তিন ভোটের ব্যবধানে বিজেপির কৃষ্ণ মুরারি দিলাওয়ারকে পরাজিত করেন। কৃষ্ণ মুরারি দিলাওয়ার রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী মদন দিলাওয়ারের ভাই।
এদিকে, শ্রীগঙ্গানগর জেলার শ্রী বিজয়নগর পুরসভায় চেয়ারপার্সন নির্বাচনের আগে উত্তেজনা ছড়ায়। কংগ্রেস সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে এক পুলিশ আধিকারিকের মাথায় আঘাত লাগার খবর পাওয়া যায়। কংগ্রেস নেতা টিকরাম জুল্লির সঙ্গেও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) প্রিয়াঙ্কা রঘুবংশীর উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
অন্যদিকে, বাজুওয়ালা রোডের একটি নার্সারির কাছে তিন কাউন্সিলরকে ঘিরে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ওয়ার্ড ২০-এর মঙ্গতরাম, ওয়ার্ড ২১-এর প্যারেলাল এবং ওয়ার্ড ১৩-এর নির্দল কাউন্সিলর বিজয় কুমারকে অপহরণ করা হয়েছে। তাঁদের পরিবারের সদস্যরা শ্রী বিজয়নগর থানায় অভিযোগ দায়ের করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তবে গুলি চালানো ও অপহরণের অভিযোগগুলি রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত পুলিশ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
বারান জেলার অন্তা পুরসভায় কংগ্রেসের প্রদীপ নগর এক ভোটের ব্যবধানে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। তিনি বিজেপির ধনরাজ চৌরাসিয়ার ১৭ ভোটের বিপরীতে ১৮ ভোট পান। সেখানে কংগ্রেস ও বিজেপি উভয়েই ১৬টি করে কাউন্সিলর আসন জিতেছিল। বাকি তিনটি আসন ছিল নির্দলদের দখলে। তাঁদের মধ্যে দু’জন কংগ্রেসকে এবং একজন বিজেপিকে সমর্থন করেন। এর ফলে অন্তা পুরসভায় টানা চতুর্থবারের মতো নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখল কংগ্রেস।
সিকরাই পুরসভায় বিজেপির কৈলাশ বৈরওয়া এক ভোটের ব্যবধানে কংগ্রেস প্রার্থী কৈলাশ বাসওয়ালকে পরাজিত করেন। সাব-ডিভিশনাল রিটার্নিং অফিসার মনোজ ভার্মা তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।
চুরু পুরসভায় বিজেপির বিনয় গোয়েঙ্কা ৩৪ ভোট পেয়ে চেয়ারপার্সন নির্বাচিত হন। কংগ্রেস প্রার্থী সঞ্জয় ভাটি পান ২৬ ভোট। খৈরতাল-তিজারা জেলার মুন্ডাওয়ার পুরসভায় বিজেপির মহেন্দ্র গুর্জর ৯ ভোটের ব্যবধানে কংগ্রেস প্রার্থী মনীষা বাই গুর্জরকে পরাজিত করে চেয়ারপার্সন হন।
ভরতপুরে বিজেপির অনুরাধা সিং একাধিক কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে মেয়র হিসেবে শপথ নিতে পৌঁছন। বাকি কাউন্সিলরদের পরের দিন শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
উদয়পুরে বিজেপির কাউন্সিলরদের ভোটগ্রহণের সময় শহরের বিধায়ক তারাচাঁদ জৈন ভোটপ্রক্রিয়া থেকে দূরে থাকেন। পুরসভা চত্বর থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে নিজের দফতরে থেকেই তিনি ফোনে সমর্থকদের কাছ থেকে পরিস্থিতির খবর নেন। মেয়র পদপ্রার্থী পরশ সিংভির মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়ও জৈন দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। মেয়র পদপ্রার্থী বাছাই নিয়ে দলের অভ্যন্তরে মতপার্থক্যের খবরের মধ্যেই তাঁর এই অবস্থান সামনে আসে।
রাজস্থানের এই পুরসভা নির্বাচনের ফলাফলে ঘনিষ্ঠ লড়াইয়ের ক্ষেত্রে নির্দল কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন পক্ষের সমর্থনের গুরুত্বও স্পষ্ট হয়েছে। উদয়পুর, ভিলওয়াড়া ও কোটায় বিজেপি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। বিকানেরে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, অজমের ও পালিতে কংগ্রেস বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে এলেও মেয়র পদে জয় পেয়েছেন বিজেপি প্রার্থীরা।
(আইএএনএস)


















