আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর: অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ, সমকাজে সমবেতন এবং অবসরপ্রাপ্ত অনিয়মিত কর্মীদের এককালীন ১০ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদানের দাবিতে গণডেপুটেশন দিল ত্রিপুরা অনিয়মিত কর্মচারী মঞ্চ। সোমবার মঞ্চের উদ্যোগে রাজ্যের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের অধিকর্তাদের কাছে এই গণডেপুটেশন প্রদান করা হয়।
এদিন ত্রিপুরা অনিয়মিত কর্মচারী মঞ্চের প্রতিনিধিরা স্বাস্থ্য অধিকর্তা, প্রাণী সম্পদ বিকাশ দপ্তরের অধিকর্তা এবং পঞ্চায়েত অধিকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে অনিয়মিত কর্মচারী হিসেবে কাজ করা কর্মীদের চাকরির স্থায়িত্ব ও আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি ডেপুটেশনের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।
মঞ্চের পক্ষ থেকে মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের ব্যবস্থা করা, একই ধরনের কাজের জন্য নিয়মিত কর্মচারীদের সঙ্গে সমকাজে সমবেতন প্রদান এবং অবসর গ্রহণ করা অনিয়মিত কর্মীদের এককালীন ১০ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া।
মঞ্চের প্রতিনিধিদের বক্তব্য, বহু অনিয়মিত কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের চাকরির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। একই ধরনের দায়িত্ব পালন করেও নিয়মিত ও অনিয়মিত কর্মীদের মধ্যে বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। ফলে কর্মজীবনে আর্থিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি অবসরের পরও অনেক কর্মী সমস্যার মধ্যে পড়ছেন বলে দাবি মঞ্চের।
এই পরিস্থিতিতে অনিয়মিত কর্মচারীদের দাবিগুলি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলির কাছে আবেদন জানানো হয়। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং অবসরপ্রাপ্তদের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।
গণডেপুটেশন কর্মসূচিতে অনিয়মিত কর্মচারী মঞ্চের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
এদিনের গণডেপুটেশনের মাধ্যমে কর্মচারীদের দাবিগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। এখন তাঁদের দাবির বিষয়ে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।



















