নয়াদিল্লি, ১৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানোর পাশাপাশি ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধির তথ্য সংগ্রহ করতে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে বলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি। গত কয়েক সপ্তাহে এলওসি সংলগ্ন এলাকায় একাধিক ড্রোন দেখা যাওয়ার ঘটনা নজরে এসেছে।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, গত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। বিশেষ করে পাঞ্জাবে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক পাচারে ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা সামনে এসেছে। বর্তমানে জম্মু ও কাশ্মীরেও একই ধরনের কৌশল প্রয়োগের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাঁদের দাবি।
আগস্টে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন পাকিস্তানি ড্রোন দেখা যাওয়ার পর নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। ওই সময় সতর্ক নিরাপত্তা বাহিনী ড্রোন লক্ষ্য করে গুলি চালালে সেগুলি ফিরে যেতে বাধ্য হয় বলে আধিকারিকরা জানান।
এক নিরাপত্তা আধিকারিকের দাবি, সীমান্ত এলাকায় ড্রোন উড়িয়ে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই তথ্য ব্যবহার করে পাকিস্তানের দিক থেকে অপেক্ষারত সন্ত্রাসীদের জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশে সহায়তা করার চেষ্টা হতে পারে বলেও তিনি জানান।
এক গোয়েন্দা ব্যুরো আধিকারিকের মতে, গত কয়েক মাসে অনুপ্রবেশের প্রচলিত পদ্ধতিগুলি প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। পাশাপাশি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের চলমান পরিস্থিতিও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে বলে তাঁর দাবি।
আধিকারিকদের দাবি, সীমান্তে অনুপ্রবেশে সহায়তার জন্য সাধারণত যে বিভ্রান্তি বা গোলমাল তৈরি করা হয়, সেই কাজে যুক্ত ব্যক্তিরাও বর্তমানে পিওকে-এর পরিস্থিতি সামলাতে ব্যস্ত। ফলে সীমান্তের ওপারে লঞ্চপ্যাডগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করা সন্ত্রাসীদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে বলেও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, ভারতীয় বাহিনীর অবস্থান ও গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলার জন্যও ড্রোন ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, পাঞ্জাবে গত কয়েক বছরে যে ধরনের ড্রোন-ভিত্তিক অস্ত্র ও মাদক পাচারের ঘটনা দেখা গেছে, একই কৌশল জম্মু ও কাশ্মীরেও প্রয়োগের চেষ্টা করছে পাকিস্তান।
আধিকারিকদের দাবি, এলওসি বরাবর পাকিস্তান মিডিয়াম অল্টিটিউড লং এন্ডিউরেন্স ড্রোন এবং তুরস্কে তৈরি বায়রাক্তার টিবি২ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে। এগুলিকে এলওসি-এর অগ্রবর্তী এলাকাগুলির কাছে দেখা যাচ্ছে বলে তাঁদের দাবি। এই ড্রোনগুলির মাধ্যমে ভারতীয় সেনার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং সীমান্তের ওপারে থাকা লঞ্চপ্যাডগুলিতে রিয়েল-টাইম তথ্য ও স্থানাঙ্ক পাঠানোর চেষ্টা করা হতে পারে বলে নিরাপত্তা সূত্রের বক্তব্য।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলির দাবি, ড্রোনের মাধ্যমে পিস্তল, ম্যাগনেটিক স্টিকি বোমা, এম৪ কারবাইন ও গ্রেনেড ফেলার চেষ্টাও হয়েছে। এসব অস্ত্র জম্মু ও কাশ্মীরের স্থানীয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আধিকারিকরা জানান।
নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক পুনর্গঠনের জন্য স্থানীয় সহযোগীদের অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করার পাশাপাশি বিদেশি সন্ত্রাসীদের অনুপ্রবেশ করানোও পাকিস্তানের লক্ষ্য। তাঁদের দাবি, লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ এবং হিজবুল মুজাহিদিনের নেতাদের কাছ থেকেও আইএসআই-এর উপর বড় ধরনের হামলা চালানোর চাপ রয়েছে।
উচ্চ নিরাপত্তার কারণে পরিকল্পিত হামলাগুলি সফল না হওয়ায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি ও সরঞ্জাম পাঠানোর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে বলে নিরাপত্তা সূত্রের দাবি।
_______



















