গুয়াহাটি, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস) : আসামের নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস জয়ী হবে বলে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা লোকসভা সাংসদ গৌরব গগৈ। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের সম্ভাব্য জয়ে আতঙ্কিত হয়ে বিজেপি বদরুদ্দিন আজমলের নেতৃত্বাধীন অল ইন্ডিয়া ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (এআইইউডিএফ) সঙ্গে গোপনে সমঝোতার চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গগৈ বলেন, আগামী ৬ অক্টোবরের নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনের জন্য দল জোরদার প্রচারে নামছে। কংগ্রেস প্রার্থীকে জয়ী করার বিষয়ে দল আত্মবিশ্বাসী বলেও দাবি করেন তিনি।
গগৈ বলেন, আমরা শক্তিশালী প্রচার চালানোর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। আসন্ন নগাঁও উপনির্বাচনে জয় নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।
এদিকে, এআইইউডিএফ নগাঁও আসনে দলের সভাপতি বদরুদ্দিন আজমলকে প্রার্থী করার কথা ভাবছে বলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। ফলে এমনিতেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হওয়া এই উপনির্বাচনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তির আবির্ভাব হতে পারে।
গগৈয়ের দাবি, কংগ্রেস প্রার্থী ঘোষণা করার পর এআইইউডিএফ তাদের প্রার্থী বাছাইয়ের কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছে। তাঁর মতে, এর থেকেই নগাঁওয়ে কংগ্রেসের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত মিলছে।
তিনি বলেন, “এর আগে এআইইউডিএফ অন্য একজনকে প্রার্থী করার কথা ভাবছিল। কিন্তু কংগ্রেস তাদের প্রার্থী ঘোষণা করার পর এআইইউডিএফ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছে।”
বিজেপিকেও নিশানা করেন গগৈ। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস শক্তিশালী প্রার্থী দেওয়ায় বিজেপি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। বদরুদ্দিন আজমল প্রার্থী হলে তার সুবিধা শেষ পর্যন্ত আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মারই হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
গগৈ বলেন, “বিজেপি আতঙ্কিত হয়ে বুঝতে পেরেছে যে কংগ্রেস একজন শক্তিশালী প্রার্থী দিয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে বিজেপি তাদের “বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহযোগী” এআইইউডিএফের সাহায্য নিতে চাইছে।
নগাঁও উপনির্বাচন ইতিমধ্যেই আসামের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। বিজেপি প্রাক্তন আইএএস আধিকারিক তথা নগাঁওয়ের প্রাক্তন ডেপুটি কমিশনার দেবাশিস শর্মাকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে, কংগ্রেস প্রার্থী করেছে প্রাক্তন বটদ্রবা বিধায়ক শিবামণি বরাকে।
২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে নগাঁও আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। ফলে আসনটি ধরে রাখা কংগ্রেসের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, দীর্ঘদিন কংগ্রেসের সঙ্গে থাকার পর এ বছরের অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রদ্যুৎ বরদলৈ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। পরে তিনি বিজেপির টিকিটে দিসপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে বিধায়ক হন।
নগাঁও আসনে জয় বিজেপির কাছে শুধুমাত্র একটি লোকসভা উপনির্বাচনে সাফল্য হবে না। কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মধ্য অসমে নিজেদের সাংগঠনিক ও নির্বাচনী প্রভাব বাড়ানোর দাবিকে আরও জোরালো করার সুযোগ পাবে গেরুয়া শিবির।
অন্যদিকে, নগাঁও আসন ধরে রাখতে পারলে কংগ্রেসও দেখাতে পারবে যে মধ্য অসমে তাদের ঐতিহ্যবাহী জনসমর্থনের ভিত এখনও অটুট রয়েছে।
২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে নগাঁও উপনির্বাচনের ফলাফল তাই দুই দলের কাছেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী ৬ অক্টোবরের ফলাফল অসমের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিতে পারে।



















