নয়াদিল্লি, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রতিরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে উৎসাহ দেওয়ার জোরালো আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর মতে, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো ভারতের কৌশলগত অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বিশ্বশক্তিগুলির তুলনায় দেশকে কৌশলগত সুবিধা এনে দেবে।
রাজধানীতে ‘বার্তা সে বিকাশ’ থিমে আয়োজিত ডিআরডিও-ইন্ডাস্ট্রি সিনার্জি মিট ভিমার্শ ২০২৬-বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজনাথ সিং বলেন, একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হল প্রযুক্তি। এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের পাশাপাশি ভারতকে আত্মনির্ভর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারতে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন স্টার্টআপের ঢেউ তৈরি হচ্ছে। ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে এই স্টার্টআপগুলি আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন দিশা দিচ্ছে। তাঁর কথায়, আজকের উদ্ভাবনই আগামী দিনের সামরিক সক্ষমতা।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে যে দেশ প্রযুক্তির নেতৃত্ব দেবে, ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্রে সেই দেশই কৌশলগত সুবিধা পাবে। তাই দেশ ও দেশের যুবসমাজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও আত্মনির্ভরতার মানসিকতা গড়ে তোলার উপর জোর দেন তিনি।
রাজনাথ সিং বলেন, ভারতের স্টার্টআপ এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগগুলি (এমএসএমই) উদ্ভাবনের নতুন পতাকাবাহক হয়ে উঠেছে। ডিপ-টেক থেকে ভবিষ্যৎমুখী প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই সংস্থাগুলি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার নতুন অধ্যায় তৈরি করছে। গবেষণা থেকে উৎপাদন পর্যন্ত আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তুলতে স্টার্টআপ ও এমএসএমই-গুলির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশ ও আত্মনির্ভরতা অর্জনের জন্য প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও), শিল্পক্ষেত্র এবং সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় ও সহযোগিতার আহ্বান জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী।
রাজনাথ সিং বলেন, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য অর্জনে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ডিআরডিও-র প্রযুক্তি, শিল্পক্ষেত্রের উৎপাদন সক্ষমতা, স্টার্টআপগুলির উদ্ভাবন এবং যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষা একই লক্ষ্যে একত্রিত হলে ভারতের সামরিক সক্ষমতা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
তিনি এই সমন্বিত শক্তিকেই ‘নতুন ভারতের সম্মিলিত শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।



















