নয়াদিল্লি, ১৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আগামী বছর পাঞ্জাবে বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নিষিদ্ধ সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (এসএফজে) রাজ্যজুড়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রচার আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে বলে গোয়েন্দা আধিকারিকদের সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ, সংগঠনটি স্থানীয় অপারেটিভদের ব্যবহার করে গ্রামীণ এলাকায় খালিস্তানপন্থী গ্রাফিতি আঁকা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী পোস্টার লাগানোর পরিকল্পনা করেছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, নিষিদ্ধ সন্ত্রাসবাদী গুরপতবন্ত সিং পান্নুনের নির্দেশে এসএফজে পোস্টার লাগানো ও দেওয়ালে খালিস্তানপন্থী বার্তা লেখার মতো কার্যকলাপ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মূল লক্ষ্য পাঞ্জাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি, উত্তেজনা ছড়ানো এবং খালিস্তানপন্থী প্রচার আরও তীব্র করা বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।
এক আধিকারিকের কথায়, পাঞ্জাবের কিছু সদস্যকে বিশেষভাবে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের পোস্টার লাগানোর পাশাপাশি দেওয়ালে খালিস্তানপন্থী বার্তা লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্য এক আধিকারিক জানান, এসএফজে-এর সদস্যদের নিজেদের কার্যকলাপের ভিডিও রেকর্ড করে পান্নুনের কাছে পাঠাতেও বলা হয়েছে। পরে সেই ভিডিওগুলি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে গোয়েন্দাদের দাবি। এর মাধ্যমে রাজ্যে উত্তেজনা তৈরি করার পাশাপাশি আরও বেশি যুবককে এই আন্দোলনের দিকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক গোয়েন্দা ব্যুরোর আধিকারিকের দাবি, পান্নুনের একটি শক্তিশালী সোশ্যাল মিডিয়া টিম রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এই টিমে যথেষ্ট বিনিয়োগ করেছে, কারণ তারা প্রচারের গুরুত্ব বোঝে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনও বিষয় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে খালিস্তান ইস্যুটিকে জনপরিসরে সক্রিয় রাখা সম্ভব হয় বলেও ওই আধিকারিক দাবি করেছেন।
গোয়েন্দা আধিকারিকদের মতে, এসএফজে-এর বিশেষ নজর গ্রামীণ পাঞ্জাবের দিকে। তাঁদের দাবি, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ এলাকার মানুষকে ভুল তথ্যের মাধ্যমে প্রভাবিত করা তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। বিশেষ করে তথ্য যাচাইয়ের সরঞ্জাম সম্পর্কে সীমিত সচেতনতা থাকায় সেখানে বিভ্রান্তিকর প্রচার দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুধু খালিস্তানপন্থী মতাদর্শ প্রচার নয়, ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ারও চেষ্টা হতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রের আশঙ্কা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
আধিকারিকদের মতে, এই ধরনের ব্যাপক প্রচারাভিযানের আরেকটি উদ্দেশ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে ছোটখাটো প্রচারমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখা। এর সুযোগ নিয়ে সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক পাচারের মতো কার্যকলাপ চালানো সহজ হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গত সপ্তাহেই দিল্লি পুলিশ সিংঘু সীমান্তে খালিস্তানপন্থী গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছিল। ব্রিকস সম্মেলনের আগে এই গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল এবং পুলিশের তদন্তে এর পিছনে এসএফজে-এর নির্দেশ থাকার কথা উঠে আসে বলে জানা গেছে। গ্রাফিতিতে ‘মোদীর ব্রিকস ভেঙে দিন’, ‘খালিস্তান এসএফজে’, ‘খালিস্তান জিন্দাবাদ’ এবং ‘এসএফজে খালিস্তান আমেরিকা ফার্স্ট’-এর মতো বার্তা লেখা ছিল।
এসএফজে-এর এই নতুন তৎপরতার সময় পাঞ্জাবে নির্বাচনের প্রস্তুতিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও ব্যস্ত রয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তান থেকে ড্রোনের মাধ্যমে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক পাচারের ঘটনাও নিরাপত্তা সংস্থাগুলির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। আধিকারিকদের মতে, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারণে এই ড্রোনগুলি শনাক্ত ও প্রতিহত করা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ড্রোনের মাধ্যমে পাচার করা অস্ত্র ও মাদক থেকে পাওয়া অর্থ জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগানোর পাশাপাশি পাঞ্জাবে খালিস্তানপন্থী কার্যকলাপ পুনরুজ্জীবিত করার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
আধিকারিকরা আরও জানিয়েছেন, এসএফজে-এর হয়ে কাজ করার জন্য নিযুক্ত ব্যক্তিদের ভালো অঙ্কের টাকা দেওয়া হচ্ছে। সংগঠনটি এমন তরুণদের বেছে নিচ্ছে যাদের আগে কোনও পুলিশি রেকর্ড নেই। ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির পক্ষে তাঁদের শনাক্ত করা তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের মতে, তাঁদের দেওয়া কাজও তুলনামূলকভাবে সহজ। প্রতিটি প্রচারমূলক পোস্টার লাগানোর জন্য ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। পাঞ্জাবে সংগঠনের অপারেটিভ ও যোগাযোগের মাধ্যমেই এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এছাড়াও মাদকাসক্তদের এই ধরনের কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে এক আধিকারিক দাবি করেছেন। তাঁদের মতে, মাদক কেনার জন্য অর্থের প্রয়োজন থাকায় এই ব্যক্তিদের সহজে কাজে লাগানো সম্ভব বলে মনে করছে সংগঠনটি।



















