নয়াদিল্লি, ১৪ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও অঙ্গীকারের কারণেই নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন অত্যন্ত সফল হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, ভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির দেশগুলিকে অভিন্ন স্বার্থ ও ঐকমত্যের জায়গায় নিয়ে আসতে মোদির নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
সোমবার এক্স-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ব্রিকস সম্মেলন নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরে জয়শঙ্কর বলেন, ভারতীয় ব্রিকস সম্মেলন নিঃসন্দেহে অত্যন্ত সফল হয়েছে। ব্রিকসের ২০ বছর পূর্তির সময়ে আয়োজিত এই সম্মেলনের সাফল্যের পিছনে প্রধানমন্ত্রী মোদির নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা ও অঙ্গীকারই মূল চালিকাশক্তি ছিল।
বিদেশমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চল ও ভিন্ন সংস্কৃতির দেশগুলি অভিন্ন জায়গা খুঁজে বের করার লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছিল। মতপার্থক্য দূর করার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ব্যবধান কমিয়ে ঐকমত্য তৈরির চেষ্টা হয়েছে। পুরো আলোচনাই ছিল উন্মুক্ত ও গঠনমূলক।
জয়শঙ্কর আরও বলেন, ব্রিকস সদস্য দেশগুলির মধ্যে গড়ে ওঠা ঐকমত্যের প্রতিফলন ঘটেছে একটি শক্তিশালী ঘোষণাপত্রে। এর মূল বার্তা ছিল বিশ্ব দক্ষিণের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী ব্রিকসের অবস্থান। তিনি জানান, সম্মেলন সফল করতে ভারতীয় দলগুলি ২৪ ঘণ্টা কাজ করেছে, যা গোটা দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
বিশ্বজুড়ে শান্তি, আলোচনা ও কূটনীতির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী মোদির আহ্বান যে গুরুত্ব পাচ্ছে, ব্রিকস সম্মেলনে তারই প্রতিফলন দেখা গেছে বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর।
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। সেই দায়িত্বের অংশ হিসেবে ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। সদস্য দেশগুলির পাশাপাশি অংশ নেন সহযোগী দেশ ও আমন্ত্রিত প্রতিনিধিরাও।
রবিবার সম্মেলনের সমাপ্তি পর্বে প্রধানমন্ত্রী মোদিও বলেন, গত দু’দিনের আলোচনায় ব্রিকসকে শুধুমাত্র দেশগুলির একটি গোষ্ঠী নয়, বরং ‘সমাধানের একটি ইকোসিস্টেম’ হিসেবে দেখার বিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়েছে। সম্মেলনে গৃহীত নয়াদিল্লি ঘোষণার সিদ্ধান্তগুলিকে সময়সীমাবদ্ধ কর্মসূচিতে পরিণত করে বাস্তবে তার সুফল পৌঁছে দেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্রিকস তৃতীয় দশকে প্রবেশ করতে চলেছে। এখন বিশ্ব শুধু ধারণা ও প্রতিশ্রুতি নয়, এই গোষ্ঠীর কাছ থেকে বাস্তব ফলাফলও প্রত্যাশা করে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সেই প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।



















