আগরতলা, ১১ সেপ্টেম্বর: রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। স্বতঃপ্রণোদিত জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, অবসর, মৃত্যু, পদত্যাগ কিংবা চাকরি থেকে বরখাস্তের কারণে কোনও শিক্ষক পদ ‘ল্যাপ্স’ হয়ে যায় না। ফলে নতুন করে পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে অপ্রয়োজনীয় উল্লেখ করে ১,১১৬টি শূন্য পিজি টিচার পদে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
গ্র্যাজুয়েট টিচার পদ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। আদালতের নথি অনুযায়ী, অবসর, মৃত্যু, পদত্যাগ কিংবা চাকরি শেষ হওয়ার কারণে বর্তমানে ২,১৯৩টি গ্র্যাজুয়েট টিচার পদ শূন্য রয়েছে। অথচ এর মধ্যে মাত্র ২৩০টি পদ পূরণের জন্য ত্রিপুরা রিক্রুটমেন্ট বোর্ড ফর টিচার্স বা টিআরবিটি-কে রিকুইজিশন পাঠানো হয়েছিল। কেন এত বিপুল সংখ্যক শূন্য পদের মধ্যে মাত্র ২৩০টি পদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।
এদিকে ২৩০টি গ্র্যাজুয়েট টিচার পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন বা এসএলপি বিচারাধীন রয়েছে। তবে ওই মামলায় পদ পূরণের ওপর কোনও স্থগিতাদেশ নেই বলে উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। পড়ুয়াদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে এসএলপির ফলাফলের অধীনেই এই পদগুলিতে নিয়োগ করা হবে কি না, সে বিষয়ে পরবর্তী শুনানির আগেই রাজ্যকে সিদ্ধান্ত নিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
অন্যদিকে, ২০২৫ সালে সৃষ্টি করা ৭০০টি গ্র্যাজুয়েট টিচার পদে নিয়োগ প্রক্রিয়াও দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। মামলায় স্বতঃপ্রণোদিতভাবে টিআরবিটির চেয়ারম্যানকে পঞ্চম প্রতিপক্ষ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। পরবর্তী শুনানির আগে এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জানিয়ে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক পদ ছাড়াও স্কুলগুলিতে প্রশাসনিক পদ পূরণের বিষয়েও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ১৬২টি হেডমাস্টার, ১০০টি অ্যাসিস্ট্যান্ট হেডমাস্টার এবং হাই স্কুলে আরও ৩০৪টি হেডমাস্টার পদ পূরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের এই নির্দেশে রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে দীর্ঘদিনের শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীর ঘাটতি পূরণের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একদিকে যেমন শিক্ষক সংকট কিছুটা কমবে, তেমনই সরকারি স্কুলগুলির পঠন-পাঠনের পরিবেশও আরও স্বাভাবিক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মামলাটি পরবর্তী শুনানির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ওই শুনানিতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা অগ্রগতি দেখাতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।
—————























