আগরতলা, ১১ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক বাজারে ত্রিপুরার চায়ের পরিচিতি বাড়ানোর পথে বড়সড় পদক্ষেপ। শুক্রবার আগরতলার দুর্গাবাড়ি কেন্দ্রীয় চা প্রক্রিয়াকরণ কারখানা থেকে বিদেশের বাজারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩.৩১ মেট্রিক টন চায়ের চালান পাঠানো হয়েছে। এই চালান ইউরোপের বাজারে ত্রিপুরার চায়ের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
শুক্রবার দুর্গাবাড়ি চা কারখানা প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রফতানি উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা চা উন্নয়ন নিগমের (টিটিডিসি) চেয়ারম্যান সমীর রঞ্জন ঘোষ, শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের সচিব কিরণ গিত্তে-সহ দফতরের আধিকারিক ও অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে টিটিডিসি চেয়ারম্যান সমীর রঞ্জন ঘোষ জানান, আন্তর্জাতিক রফতানির কথা মাথায় রেখেই নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে এই চা প্রস্তুত করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিদেশে রফতানির আগে প্রায় ৪৮টি পৃথক গুণমানের মানদণ্ড পূরণ করতে হয়। সেই কঠোর মানদণ্ড মেনেই দুর্গাবাড়ি কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় চা প্রক্রিয়াকরণ ও প্রস্তুত করা হয়েছে।
সমীর রঞ্জন ঘোষের দাবি, এই চালান শুধুমাত্র একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ নয়, বরং ত্রিপুরার চা শ্রমিক ও কর্মীদের গুণমান বজায় রেখে উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণের সক্ষমতারও প্রতিফলন।
তিনি জানান, শুক্রবার মোট দুটি চালান পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ হাজার ৩০০ কেজি বা ১৫.৩ মেট্রিক টন চা রাজ্যের বাইরের বাজারের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি ৮ মেট্রিক টন চা কলকাতার অভ্যন্তরীণ বাজারে পাঠানো হয়েছে। বিদেশের বাজারের জন্য নির্ধারিত ১৫.৩ মেট্রিক টনের চালানটি বর্তমানে কলকাতার উদ্দেশে পরিবহণ করা হচ্ছে। কলকাতা থেকেই সেটি চূড়ান্ত আন্তর্জাতিক গন্তব্যে পাঠানো হবে।
টিটিডিসি চেয়ারম্যান আরও জানান, বিশেষ করে ‘ত্রিপুরেশ্বরী’ ব্র্যান্ডের চায়ের চাহিদা রাজ্যের বাইরে ক্রমশ বাড়ছে। এই রফতানি উদ্যোগ ভবিষ্যতে ত্রিপুরার চায়ের জন্য আরও বড় আন্তর্জাতিক অর্ডার পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদী।
চা শ্রমিকদের কল্যাণে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সমীর রঞ্জন ঘোষ। চা শ্রমিকদের জমির লিজ প্রদান এবং মুখ্যমন্ত্রীর চা শ্রমিক কল্যাণ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, চা শিল্পে এখনও একাধিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে রাজ্য সরকার বর্তমানে ত্রিপুরার চা শিল্পের উন্নয়নে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ত্রিপুরার চায়ের স্বাদ ও গুণমানের স্বীকৃতি আরও বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এই রফতানি উদ্যোগের ফলে চা শ্রমিক, ক্ষুদ্র চা উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরোপের বাজারের উদ্দেশে পাঠানো এই চালানকে ত্রিপুরার চা শিল্পের আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।



















