কৈলাসহর, ১১ সেপ্টেম্বর: ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর স্লোগান দিলেও বিরোধী দলের নির্বাচিত পঞ্চায়েত সদস্যের ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে—এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিজেপি পরিচালিত ছনতৈল গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, বিরোধী দলের সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় তাঁর ওয়ার্ডে রেগার কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার ছনতৈল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
ঘটনাটি কৈলাসহরের চণ্ডীপুর ব্লকের অন্তর্গত ছনতৈল গ্রাম পঞ্চায়েতের। ১৩ আসনবিশিষ্ট এই গ্রাম পঞ্চায়েতে ১১ জন বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য রয়েছেন। অপরদিকে, দুইজন সদস্য কংগ্রেসের। দুই নম্বর ওয়ার্ড থেকে কংগ্রেসের পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন রকিব আলী ও শাহিদা বেগম।
পঞ্চায়েত সদস্য রকিব আলীর অভিযোগ, বিরোধী দলের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কারণে তাঁর ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমনকি তাঁদের ন্যায্য পাওনা থেকেও বঞ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁর।
রকিব আলীর দাবি, সম্প্রতি ছনতৈল গ্রাম পঞ্চায়েতের দুই, তিন ও ছয় নম্বর ওয়ার্ডে রেগার শ্রমিকদের জন্য সাত দিনের কাজ বরাদ্দ হয়। সেই অনুযায়ী গত চারদিন ধরে তিনটি ওয়ার্ডেই শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। শুক্রবার সকালে প্রতিদিনের মতো দুই নম্বর ওয়ার্ডের রেগা শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে গেলে তাঁদের জানানো হয়, এদিন কাজ বন্ধ থাকবে।
বিষয়টি জানতে পেরে পঞ্চায়েত সদস্য রকিব আলী ঘটনাস্থলে গিয়ে পঞ্চায়েত প্রধানকে ফোন করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রধানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রেগা পোর্টালের সফটওয়্যারে সমস্যা হওয়ায় এদিন কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে পরবর্তীতে রকিব আলী শ্রমিকদের নিয়ে পঞ্চায়েত অফিসের দিকে যাওয়ার সময় দেখতে পান, দুই নম্বর ওয়ার্ডে কাজ বন্ধ থাকলেও তিন ও ছয় নম্বর ওয়ার্ডে রেগার কাজ যথারীতি চলছে। এরপরই কাজ বন্ধের কারণ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
রকিব আলীর অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি নেতা তথা দুই নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য আতাহুর রহমানের প্রভাবেই ওই ওয়ার্ডে রেগার কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, ছয়জন রেগা শ্রমিকের স্বাক্ষর জাল করে এবং নিজের স্বাক্ষর দিয়ে মোট সাতজনের স্বাক্ষর-সম্বলিত একটি অভিযোগপত্র পঞ্চায়েতে জমা দেওয়া হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই দুই নম্বর ওয়ার্ডে রেগার কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
রকিব আলীর দাবি, যাঁদের মধ্যে পাঁচজনের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁরা গত চারদিন ধরেই অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে রেগার কাজে যুক্ত ছিলেন এবং শুক্রবারও কাজ করতে এসেছিলেন। অপর একজনের ক্ষেত্রেও স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। ওই ব্যক্তির ছনতৈল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রেশন কার্ড কিংবা জব কার্ড নেই বলেও দাবি করেন রকিব আলী।
এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকে রেগার শ্রমিকরা পঞ্চায়েত অফিস চত্বরে অপেক্ষা করলেও দুপুর পর্যন্ত পঞ্চায়েত প্রধান, উপপ্রধান কিংবা পঞ্চায়েত সচিবের সঙ্গে তাঁদের সাক্ষাৎ হয়নি বলে অভিযোগ। রকিব আলী জানান, সমস্যার সমাধান শুক্রবার রাতের মধ্যে না হলে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।
যদিও পঞ্চায়েত সদস্য রকিব আলীর তোলা অভিযোগের বিষয়ে পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গেছে, প্রধান, উপপ্রধান এবং পঞ্চায়েত সচিব একটি সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকায় শুক্রবার দুপুর একটা পর্যন্ত তাঁরা পঞ্চায়েত অফিসে ছিলেন না। ফলে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট সরকারি অনুষ্ঠানটি শুক্রবার দিনভর চলবে।
ঘটনায় রেগার কাজ বন্ধের প্রকৃত কারণ কী এবং অভিযোগপত্রে শ্রমিকদের স্বাক্ষর নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা কতটা সত্য—তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।























