নয়াদিল্লি, ১০ সেপ্টেম্বর(আইএএনএস) : আগামী সপ্তাহান্তে নয়াদিল্লিতে দু’দিনের ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, উচ্চপর্যায়ের এই সম্মেলনের জন্য ভারত পুরোপুরি প্রস্তুত।
প্রধানমন্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে ব্রিকস সম্মেলনের মূল আয়োজকস্থল ভারত মণ্ডপমকে বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানানোর জন্য সাজিয়ে তোলার দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওর শেষে লেখা ছিল, ভারত ব্রিকস ২০২৬-এর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভিডিওটি শেয়ার করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, ব্রিকস ২০২৬-এর জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন!
২০২৬ সালে ব্রিকসের সভাপতিত্ব করছে ভারত। সেই সূত্রে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন। সম্মেলনে ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলির পাশাপাশি আমন্ত্রিত দেশগুলির প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান-সহ একাধিক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের নয়াদিল্লিতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বের এবারের মূল ভাবনা সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই সক্ষমতা গড়ে তোলা। প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘মানবতাই প্রথম’ ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জনকেন্দ্রিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ব্রিকসের অভিন্ন অগ্রাধিকার, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও সদস্য দেশগুলির নেতারা মতবিনিময় করবেন।
বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলি হল ব্রাজিল, চিন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ব্রিকসের অংশীদার দেশগুলির মধ্যে রয়েছে বেলারুশ, কিউবা, বলিভিয়া, কাজাখস্তান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড, উগান্ডা, উজবেকিস্তান ও ভিয়েতনাম।
ব্রিকসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ভারত এর আগে ২০১২, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে এই গোষ্ঠীর সভাপতিত্ব করেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ভারত চতুর্থবারের জন্য ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণ করে। একইসঙ্গে ২০২৬ সালে ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্ণ করছে।
সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ একাধিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশকর্মী এবং ২০০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। ভিভিআইপি যাতায়াতের কারণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা সীমিত করা হবে বলেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রকের এক বিবৃতি অনুযায়ী, ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক ও আর্থিক এবং সাংস্কৃতিক ও জনসম্পর্ক, এই তিনটি মূল স্তম্ভকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই ৩৫০টিরও বেশি বৈঠক ও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবসায়িক ও জনপর্যায়ের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকসের সহযোগিতাকে আরও কার্যকর ও উন্নয়নমুখী করার চেষ্টা করা হয়েছে।



















