আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা আজ জানিয়েছেন, সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মৌলিক সাক্ষরতা শক্তিশালী করার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে সরকার ২০২৫-২৬ সালে ড্রপআউট রেট বা বিদ্যালয় ছুটের হার শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনতে সফল হয়েছে এবং আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে এই ড্রপআউট রেট সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আরও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ও উল্লাস মেলা, ২০২৬ – নতুন দিল্লিতে আয়োজিত কার্যক্রমে বক্তব্য রাখার সময় একথা বলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, প্রত্যন্ত এবং গ্রামীণ এলাকার সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে কম নাম নথিভুক্তিকরণের সমস্যা মোকাবিলা করার জন্য, আমরা খুব কম শিক্ষার্থী থাকা বিদ্যালয়গুলিকে একীভূত/সংযুক্ত করে একলব্য মডেল স্কুলের আদলে অত্যাধুনিক আবাসিক বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা করছি। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিশ্বাস করেন যে শিক্ষা ও সাক্ষরতা হলো একটি উন্নত ও শক্তিশালী ভারতের ভিত্তি। ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী চান প্রতিটি শিশু জ্ঞান, দক্ষতা, মূল্যবোধ এবং সুযোগ অর্জন করে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। সাক্ষরতা শুধু পড়তে ও লিখতে পারার ক্ষমতা নয়; এটি ক্ষমতায়ন, মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। ত্রিপুরা মে ২০২২ থেকে ( উল্লাস – আন্ডারস্ট্যান্ডিং লাইফলং ফর অল ইন সোসাইটি – নব ভারত সাক্ষরতা কার্যক্রম) বাস্তবায়ন করে আসছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে উল্লাসের অধীনে বেশ কয়েকটি উদ্ভাবনী প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজ্য নব-সাক্ষরদের জন্য আর্থিক সাক্ষরতা সহ বিভিন্ন উদ্ভাবনী পদ্ধতি গ্রহণ করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের চেক বই, জমা দেওয়ার ফর্ম এবং ব্যাঙ্কিং পরিষেবা ব্যবহার করা শেখানো হয়। এছাড়াও, রাজ্য ‘অভিজ্ঞতামূলক বাজার শিক্ষা’ এর মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করছে, যেখানে সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান শক্তিশালী করতে দৈনন্দিন কেনাকাটা, বিক্রি এবং মূল্য তুলনা ব্যবহার করা হয়। এর পাশাপাশি, রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষ ও নব-সাক্ষরদের মধ্যে হাত ধোয়া, স্যানিটেশন এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার বাস্তব প্রদর্শনের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে দ্রুত সচেতনতা নিশ্চিত করছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে ইউডিআইএসই+ অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ সালে রাজ্যে প্রাথমিক স্তরে (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী) ড্রপআউট রেট ছিল ২.২১%। আমাদের সমস্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মৌলিক সাক্ষরতা শক্তিশালী করার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার মাধ্যমে, আমাদের সরকার ২০২৫-২৬ সালে ড্রপআউট রেট শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনতে সফল হয়েছে। একইভাবে, মাধ্যমিক শিক্ষায় (নবম ও দশম শ্রেণী), ২০১৩-১৪ সালে ত্রিপুরায় ড্রপআউট রেট ছিল ২৫.৫১%। আমাদের সরকার ২০২৫-২৬ সালে এই ড্রপআউট রেট উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ১০.৪০%-এ নিয়ে আসতে সফল হয়েছে। আমরা আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে এই ড্রপআউট রেট সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আরও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি আবারও উল্লেখ করতে চাই যে আমাদের সরকার স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থায় ট্রানজিশন রেট (উচ্চতর শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ার হার) উন্নত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরও জানান যে সম্প্রতি জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর নির্দেশিকা অনুসারে, রাজ্য সরকার ত্রিপুরায় ‘বোর্ড অব ওপেন স্কুলিং অ্যান্ড এক্সামিনেশন’ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছে। প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার গুণগত মানের উপর আরও ভালোভাবে নজর দেওয়ার জন্য জেলাগুলির জেলাশাসকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, জাতীয় শিক্ষা নীতির নির্দেশিকা অনুসারে, আমরা আগামী দুই বছরের মধ্যে আমাদের রাজ্যের সমস্ত ২,০৪৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৫ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুদের জন্য এক বছরের প্রাক-বিদ্যালয় শিক্ষার জন্য ‘বালবাটিকা’ শুরু করব। এর উদ্দেশ্য হলো কোন শিশু যখন প্রথম শ্রেণীতে যাবে, তখন তাকে মৌলিক শেখার দক্ষতাগুলিতে পারদর্শী করে তোলা। আমরা একই সাথে স্কুল পরিকাঠামোর উন্নয়ন, ডিজিটাল শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, নারী শিক্ষা, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা এবং শিক্ষার গুণগত মানের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি।
এই কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী, দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী (স্বাধীন দায়িত্ব) এবং শিক্ষা মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধুরী, উত্তরাখণ্ড সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. ধনসিং রাওয়াত, মিজোরাম সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. ভানলালথানা, হিমাচল প্রদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী রোহিত ঠাকুর, সিকিম সরকারের বিদ্যালয়, উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষা মন্ত্রী রাজু বাসনেট, ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের সচিব টি. কে. অনিলকুমার, ভারত সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের স্কুল শিক্ষা ও সাক্ষরতা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব অর্চনা অবস্তি এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও বিভিন্ন রাজ্য/কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিশিষ্ট অতিথি ও আধিকারিকগণ।



















