হায়দরাবাদ, ৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ফি রিইম্বার্সমেন্টের বকেয়া টাকা মেটানোর দাবিতে তেলেঙ্গানা বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিল বিজেপির যুব সংগঠন ভারতীয় জনতা যুব মোর্চা (বিজেওয়াইএম)। সোমবার সেই কর্মসূচি আটকাতে তেলেঙ্গানা বিজেপির সভাপতি এন. রামচন্দর রাও-সহ একাধিক বিজেপি নেতা ও কর্মীকে আটক করে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তিও হয়।
বিধানসভার দিকে মিছিল করে এগোনোর সময় রামচন্দর রাও এবং তাঁর সমর্থকদের বাধা দেয় পুলিশ। তাঁকে আটক করে পুলিশের গাড়িতে তোলার সময় বিজেপি কর্মীরা গাড়িটি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এর জেরে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের গাড়ির ওপর উঠে পড়েন এবং গাড়িটির সামান্য ক্ষয়ক্ষতিও হয়। ধস্তাধস্তিতে কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানা যায়।
রামচন্দর রাও ‘এক্স’-এ অভিযোগ করেন, গত ১০ দিনে ফি রিইম্বার্সমেন্টের বকেয়া মেটানোর দাবি জানানোয় তাঁকে চতুর্থবার আটক করা হয়েছে। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে কংগ্রেস সরকারের ‘ছাত্রবিরোধী মানসিকতা’ প্রকাশ্যে এসেছে। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার পরিবর্তে তাঁদের হয়ে কথা বলা ব্যক্তিদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
প্ল্যাকার্ড ও বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে এবং স্লোগান দিতে দিতে দফায় দফায় বিক্ষোভকারীরা বিধানসভার দিকে এগোনোর চেষ্টা করেন। পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। অনেকে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ শুরু করলে পুলিশ তাঁদের শারীরিকভাবে সরিয়ে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যায়। এর আগে একদল বিক্ষোভকারী বিধানসভা ভবনের কাছাকাছি পৌঁছে গেলে তাঁদেরও আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
রাজ্য বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই ফি রিইম্বার্সমেন্টের বকেয়া মেটানোর দাবিতে ‘চলো অ্যাসেম্বলি’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল বিজেওয়াইএম। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিধানসভা চত্বর ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে পুলিশ। বিধানসভামুখী বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিক্ষোভের ডাক এবং যান চলাচলে কিছু বিধিনিষেধের কারণে শহরের কেন্দ্রীয় অংশে একাধিক ব্যস্ত রাস্তায় যান চলাচলও প্রভাবিত হয়।
ফি রিইম্বার্সমেন্ট ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিজেপি। দলের অভিযোগ, কংগ্রেস সরকার প্রায় ১৫,০০০ কোটি টাকার বকেয়া ফি রিইম্বার্সমেন্ট এখনও মেটায়নি। এর ফলে প্রায় ৪০ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে দাবি বিজেপির।
এদিকে বিধানসভাতেও বিষয়টি নিয়ে সরব হন বিজেপি বিধায়করা। পাশাপাশি ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ২২এ ধারার আওতায় ব্যক্তিগত সম্পত্তি ‘ইচ্ছেমতো’ অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে আলোচনার দাবিতে তাঁরা অধিবেশন ব্যাহত করার চেষ্টা করেন।
অধিবেশন শুরু হতেই বিজেপির পরিষদীয় দলের নেতা এলেটি মহেশ্বর রেড্ডির নেতৃত্বে দলের বিধায়করা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। নিয়মিত কাজকর্ম স্থগিত করে তাঁদের দেওয়া মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার দাবি জানান তাঁরা। স্পিকার গদ্দাম প্রসাদ কুমার সেই দাবি খারিজ করলে বিজেপি বিধায়করা বিধানসভার ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন।
বিজেপি বিধায়কদের হাতে প্ল্যাকার্ড থাকায় স্পিকার আপত্তি জানান এবং নিরাপত্তাকর্মীদের সেগুলি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে বিজেপি বিধায়করা প্রতিবাদ চালিয়ে যান। রেভিনিউ ও রেজিস্ট্রেশন দফতরের ব্যবস্থাপনার অপব্যবহার, তোলাবাজি এবং ২২এ ধারার অধীনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি ইচ্ছেমতো ‘ফ্রিজ’ করার অভিযোগের তদন্তে বর্তমান বিচারপতির নেতৃত্বে তদন্তের দাবি জানায় বিজেপি।
এর পর আইনসভার বিষয়ক মন্ত্রী ডি. শ্রীধর বাবু জানান, সরকার ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে স্বল্পকালীন আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্ধারিত এজেন্ডা অনুযায়ী অধিবেশন পরিচালনায় সহযোগিতা করার জন্য তিনি বিজেপি বিধায়কদের আবেদন জানান। কিন্তু বিজেপির প্রতিবাদ অব্যাহত থাকায় স্পিকার শেষ পর্যন্ত বিধানসভা ১৫ মিনিটের জন্য মুলতবি করে দেন।
(আইএএনএস)

















