নয়াদিল্লি, ৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতের সঙ্গে ‘বিশ্বস্ত ও সৎ’ সম্পর্ক বজায় রাখার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের দক্ষতার প্রশংসা করলেন লুক্সেমবার্গের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিদেশমন্ত্রী জাভিয়ের বেটেল। রাজনৈতিক নেতৃত্বের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভারতের দক্ষতায় তিনি মুগ্ধ বলেও জানান।
নয়াদিল্লিতে বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বেটেল বলেন, গত কয়েক বছরে ভারত ও লুক্সেমবার্গের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী করার জন্য উল্লেখযোগ্য প্রচেষ্টা হয়েছে। তিনি বলেন, “আপনি আপনার প্রতিবেশী বেছে নিতে পারেন না, কিন্তু বন্ধু বেছে নিতে পারেন। এখানে আসাও সেই বন্ধুত্বেরই অংশ।”
লুক্সেমবার্গের সরকারের সঙ্গে তাঁর ১৩ বছরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বেটেল বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকালীন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথাও স্মরণ করেন তিনি।
বেটেল বলেন, “আমি যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলাম, তখনও আপনাদের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক ছিল।” ভারত গণতন্ত্রের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার জন্য তিনি ভারতীয় নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দক্ষতার বিশেষ প্রশংসা করেন লুক্সেমবার্গের বিদেশমন্ত্রী। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারত ও লুক্সেমবার্গের যৌথ প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন কোনও কাজ করার কথা বলেছিলেন, তখন সেটি বাস্তবায়নও করেছিলেন।
বেটেলের কথায়, ইউরোপে কোনও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর সেটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে সাধারণত দীর্ঘ আলোচনা শুরু হয়। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই দ্রুত তা বাস্তবায়িত হতে দেখা যায়। এই দক্ষতায় তিনি বিশেষভাবে মুগ্ধ হয়েছেন বলে জানান।
গত মাসে পালিত ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ভারতীয় জনগণকেও শুভেচ্ছা জানান বেটেল।
আন্তর্জাতিক সংঘাতের সমাধানে বাস্তববাদী বা ‘প্র্যাগম্যাটিক’ দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, দেশগুলির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে হলে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এগোতে হবে। কোনও দেশের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়, বরং মানুষের স্বার্থে সেতুবন্ধন তৈরি করাই হওয়া উচিত লক্ষ্য।
বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে বেটেল আশা প্রকাশ করেন, ভারত অতীতের মতোই দক্ষতার সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমস্যাগুলির সমাধানে গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতার সেতুবন্ধন আরও শক্তিশালী করবে।
(আইএএনএস)



















