ইম্ফল, ৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মণিপুরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হলে জাতিগত হিংসায় বাস্তুচ্যুত মানুষদের পুনর্বাসন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা হবে বলে সোমবার বিধানসভায় জানালেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনথৌজাম গোবিন্দাস সিং।
কংগ্রেস বিধায়ক কাংগুজাম রঞ্জিত সিংয়ের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ত্রাণ শিবিরে থাকা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষদের (আইডিপি) কল্যাণ ও পুনর্বাসনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া নজিরবিহীন জাতিগত হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণেও সরকারের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে তিনি জানান।
হিংসার সময় হারিয়ে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত অস্থাবর সম্পত্তির জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়েও বিধানসভায় প্রশ্ন ওঠে। গোবিন্দাস সিং জানান, এখনও পর্যন্ত এ ধরনের কোনও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। তবে পুনর্বাসন ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর বিষয়টি সরকার খতিয়ে দেখবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এর আগে গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, ২০২৩ সালের ৩ মে শুরু হওয়া জাতিগত হিংসার জেরে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার জনকে ইতিমধ্যেই পুনর্বাসিত করা হয়েছে।
কংগ্রেস বিধায়ক লোকেশ্বর সিংয়ের আনা স্বল্পমেয়াদি আলোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এখনও প্রায় ২৪ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ রাজ্যের বিভিন্ন ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন। বিধায়কদের সম্মিলিত সহযোগিতা ও প্রচেষ্টার কারণেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ৩৬ হাজার মানুষকে পুনর্বাসিত করা হলেও প্রায় ৬০ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে এখনও প্রায় ৫৯ হাজার জনকে সরকার আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, বাড়িতে ফিরে যাওয়া মানুষদের অনেকেই জীবিকা ও আয়ের সুযোগের অভাবে এখনও সমস্যার মুখে রয়েছেন। সেই কারণে তাঁদের মাসিক আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, পাহাড় ও উপত্যকা—দুই অঞ্চলের বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যেই নিজেদের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার প্রয়োজন ও ইচ্ছা সমানভাবে রয়েছে।
(আইএএনএস)



















