পুণে, ৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (এমপিএসসি)-এর পরীক্ষায় অনিয়ম, বারবার প্রশ্নফাঁস এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সোমবার পুণের রাস্তায় নামলেন হাজার হাজার পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার্থীরা ‘আক্রোশ মোর্চা’ নামে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন এবং এমপিএসসি-তে ব্যাপক সংস্কারের দাবি জানান।
ওমকারেশ্বর মন্দির থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি জেলা কালেক্টরেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের আন্দোলনে সমর্থন জানায় বিরোধী দলগুলিও। এর মধ্যে ছিল ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (শরদচন্দ্র পাওয়ার), ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেস এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)।
কালো শার্ট পরে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বিধায়ক রোহিত পাওয়ার একটি গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বিশাল জমায়েতের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি এমপিএসসি-র নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। সম্প্রতি এমপিএসসি এক্সাইজ (ডিপার্টমেন্টাল) পরীক্ষাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে যোগসাজশের অভিযোগ সামনে এসেছে। একটি উচ্চপদস্থ যুগ্ম সচিব পর্যায়ের আধিকারিকের বিরুদ্ধে পরীক্ষার নম্বর দেওয়ার পদ্ধতি ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রোহিত পাওয়ার বলেন, “শিক্ষার্থীরা দিনে ২০ ঘণ্টা পরিশ্রম করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অথচ কমিশনের ভিতরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পরীক্ষার সামগ্রী বিক্রির অভিযোগ উঠছে—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পরিশ্রমী পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে এই অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না। এই মিছিল রাজনৈতিক নয়, এটি আমাদের যুবসমাজের ভবিষ্যতের লড়াই।”
বিক্ষোভকারীরা বর্তমান এমপিএসসি চেয়ারম্যান ও সচিবকে অবিলম্বে অপসারণ করে তাঁদের জায়গায় স্বচ্ছ ভাবমূর্তির আধিকারিক নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি অভিযোগগুলির পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি তদন্ত, অভিযুক্ত আধিকারিক ও মধ্যস্থতাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এবং এমপিএসসি-র পরীক্ষা ও নিয়োগ কাঠামোয় সম্পূর্ণ সংস্কারের দাবি উঠেছে।
বিরোধীরা এই ইস্যুকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছে—এমন অভিযোগ খারিজ করে রোহিত পাওয়ার বলেন, ন্যায্য সুযোগের দাবিতে পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক বলা যায় না। দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি পদ পেতে ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ার অভিযোগও তিনি তোলেন।
মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি হর্ষবর্ধন সাপকালের অভিযোগ, প্রশ্নফাঁসের কারণে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থীর পরিশ্রম ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এমপিএসসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে তিনি পুণের এই আন্দোলনের প্রতি কংগ্রেসের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানান।
সাপকালের মতে, এমপিএসসির মতো একটি স্বশাসিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কাজকর্ম স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হওয়া জরুরি। পরীক্ষা স্বচ্ছ, নিয়োগ প্রক্রিয়া ন্যায্য এবং পরীক্ষার্থীদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার দাবিতে কংগ্রেস তাঁদের পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।
অন্যদিকে, কংগ্রেস বিধানসভা দলের নেতা বিজয় ওয়াদেত্তিবার অভিযোগ করেন, এমপিএসসির সভাপতি ও সচিবই প্রশ্নফাঁস এবং কথিত বড়সড় কেলেঙ্কারির জন্য দায়ী। সরকারের প্রত্যক্ষ মদত ছাড়া এই ধরনের দুর্নীতি সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি। সৎ পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ তুলে মহাযুতি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন ওয়াদেত্তিবার।
তবে বিজেপির রাজ্য প্রধান মুখপাত্র নবনাথ বান বিরোধীদের অভিযোগ খারিজ করে বলেন, এমপিএসসি-র আন্দোলন পরীক্ষার্থীদের জন্য নয়, রোহিত পাওয়ারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ তৈরির জন্য। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস পরীক্ষার্থীদের কাঁধে বন্দুক রেখে রাজনৈতিক লড়াই চালাচ্ছে।
বান বলেন, পরীক্ষার্থীদের বৈধ দাবি সরকার পূরণ করবে। তবে রাজনৈতিক নাটকেরও উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মহারাষ্ট্রে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ যে ক্রমশ বাড়ছে, পুণের এই বিশাল আন্দোলন তারই প্রতিফলন। পরীক্ষার্থীদের সংগঠনগুলি জানিয়েছে, সরকার তাঁদের দাবি পূরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
(আইএএনএস)



















