নয়াদিল্লি, ৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারত ও লুক্সেমবার্গের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে ‘অত্যন্ত আস্থাশীল’ বলে উল্লেখ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি ও বৈচিত্র্যকরণের ক্ষেত্রে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ)-তে লুক্সেমবার্গের সমর্থনের জন্যও তিনি দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী জাভিয়ের বেটেলকে ধন্যবাদ জানান।
সোমবার নয়াদিল্লিতে লুক্সেমবার্গের উপ-প্রধানমন্ত্রী জাভিয়ের বেটেলের সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, বেটেলের ভারত সফর দুই দেশের ক্রমবর্ধমান ও গভীরতর অংশীদারিত্বের প্রতিফলন। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে যখন বিভিন্ন অনিশ্চয়তা নিয়ে বিদেশমন্ত্রীরা উদ্বিগ্ন থাকেন, তখন ভারত ও লুক্সেমবার্গের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জয়শঙ্কর বলেন, “আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত আস্থাশীল। আমরা ইতিমধ্যেই অনেক কিছু করেছি এবং আরও অনেক কিছু করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। বিশেষ করে সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতা এবং বৈচিত্র্যকরণের ক্ষেত্রে আরও কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ইউরোপের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির অনুমোদন এবং ভবিষ্যতে এর কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে।”
ভারত-ইইউ এফটিএ-র ক্ষেত্রে লুক্সেমবার্গের “জোরালো সমর্থনের” জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিদেশমন্ত্রী বলেন, চুক্তিটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছনোর ক্ষেত্রে লুক্সেমবার্গের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। এখন চুক্তিটি কার্যকর করার দিকে এগোনো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
লুক্সেমবার্গ সফরের স্মৃতিচারণ করে জয়শঙ্কর বলেন, চলতি বছরের শুরুতে তিনি দেশটির অতিথি হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন এবং সেই সফরের “অত্যন্ত উষ্ণ স্মৃতি” এখনও তাঁর মনে রয়েছে। বেটেলের ভারত সফরের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি জানান।
দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের কথাও তুলে ধরেন জয়শঙ্কর। তিনি জানান, ২০২০ সালে জাভিয়ের বেটেল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনে সহ-সভাপতিত্ব করেছিলেন এবং ২০২১ সালেও লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আর্থিক সহযোগিতাকে ভারত-লুক্সেমবার্গ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, এর পাশাপাশি মহাকাশ, ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারত ও লুক্সেমবার্গের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন বিদেশমন্ত্রী। তাঁর মতে, সেই সহযোগিতা পরবর্তী সময়ে আরও বিস্তৃত হয়েছে।
(আইএএনএস)



















