আগরতলা, ৬ সেপ্টেম্বর: দিল্লি সফর শেষে ত্রিপুরায় ফিরে ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়ন, ভূমির অধিকার এবং আসন্ন রাজনৈতিক জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে নিজ প্রতিক্রিয়া দিলেন তিপ্রামথা বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে এডিসি এলাকার ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে সম্ভাব্য আসন সমঝোতার বিষয়টিও।
রঞ্জিত দেববর্মা জানান, তাঁদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল এডিসি এলাকার জনগণের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করা। এই দাবি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং বিষয়টি বাস্তবায়নের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই কেন্দ্র সরকারের একটি প্রতিনিধি দল ত্রিপুরায় আসছেন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করবেন। এডিসি এলাকায় থাকা খাস জমি বণ্টনসহ ভূমির অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য একটি খসড়া তৈরির কাজ চলছে। ১৫ দিনের মধ্যে সেই খসড়া সম্পূর্ণ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভূমির অধিকার বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে, আসন সমঝোতা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের কথা জানান তিনি। বিজেপি ও তিপরা মথার মধ্যে বৈঠকে কোন এলাকায় কোন দলের সাংগঠনিক প্রভাব বেশি, তা পর্যালোচনা করে আসন সমঝোতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান রঞ্জিত দেববর্মা।
ইতিমধ্যে তিপরা মথার একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তাঁদের মনোনয়ন বহাল থাকবে কিনা, কিংবা জোটের স্বার্থে কোনো পরিবর্তন করা হবে কি না—সেই সিদ্ধান্ত আলোচনার পর নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। তাঁর কথায়, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
আলোচনায় প্রধান দাবিগুলির মধ্যে ভূমির অধিকারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে ভূমির অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়টি কেন্দ্র ও রাজ্য—উভয় পক্ষের কাছেই গুরুত্ব পেয়েছে।
এদিকে, জোট ও আসন সমঝোতার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ‘ফর্মুলা’ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন রঞ্জিত দেববর্মা। স্থানীয়ভাবে কোন দলের প্রভাব কোথায় বেশি, তা বিবেচনা করেই আসন বণ্টনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, দিল্লি সফর শেষে রঞ্জিত দেববর্মার এই বক্তব্যকে ঘিরে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা গেছে। তবে আগামীদিনে এর বাস্তবায়নে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কিকি পরিবর্তন হয় সেটাই দেখার।



















