চড়িলাম, ৩ সেপ্টেম্বর: স্বর্ণালংকার গায়েব হয়ে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশালগড় থানায় বড়সড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। থানার ওসি বিজয় দাস, সেকেন্ড ওসি সুপ্রতিম দে, এসআই বাণীজয় রিয়াং এবং কনস্টেবল বাহার মিয়াকে ক্লোজ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশালগড় থানায় মামলা নম্বর ৭৩/২০২৬ নথিভুক্ত হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে পুলিশ মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রপাত চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সোনামুড়া-মেলাঘর এলাকার একটি পরিবার অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসার জন্য পারিবারিক স্বর্ণালংকার বিক্রির উদ্দেশ্যে আগরতলার দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে বিশালগড় কলেজ সংলগ্ন এলাকায় তাদের গাড়ি আটক করে পুলিশ। তল্লাশির সময় গাড়ি থেকে তিন কেজিরও বেশি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয় বলে অভিযোগ।
এরপর গাড়িটিকে একটি চা-বাগান এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরে পুলিশের নির্দেশে বিশালগড় থানায় নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগকারীদের দাবি। থানায় দীর্ঘ সময় ধরে গাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হলেও গাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার আর পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ ওঠে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের বিরুদ্ধে স্বর্ণালংকার আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। যদিও স্বর্ণালংকারের প্রকৃত পরিমাণ, তা আদৌ কীভাবে নিখোঁজ হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা কী, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
অভিযোগকারীদের দাবি, প্রথমদিকে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি জানানো হলেও কাঙ্ক্ষিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ত্রিপুরা হাইকোর্ট বিশালগড় থানার ওসি বিজয় দাস এবং এসআই পর্যায়ের দুই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি তদন্তের জন্য ক্রাইম ব্রাঞ্চের যোগ্য আধিকারিক নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয় বলে জানা গেছে। থানার সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত পুলিশকর্মীদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা শুরু হয়। প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে গিয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার কথাও উল্লেখ রয়েছে।
সবশেষে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে বিশালগড় থানার ওসি, সেকেন্ড ওসি, এক এসআই এবং এক কনস্টেবলকে ক্লোজ করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন অভিযোগকারী পরিবারসহ সাধারণ মানুষ।
























