ঢাকা, ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে আরও এক দলীয় নেতার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অসুস্থ হয়ে পড়ার পর কারাগারে মৃত্যু হয় ৫৫ বছর বয়সি নুর ইসলাম নামে ওই নেতার। তিনি মীরসরাই পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
বুধবার দুপুরে বুকে ব্যথার অভিযোগ জানালে প্রথমে তাঁকে কারাগারের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (সিএমসিএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপারিনটেনডেন্ট মো. ইকবাল হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলায় গ্রেফতারের পর সম্প্রতি নুর ইসলামকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।
মৃতের স্ত্রী রোকেয়া আক্তার সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাজনৈতিক মামলায় মীরসরাই থানার পুলিশ তাঁর স্বামীকে গ্রেফতার করে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠায়। ৩১ আগস্ট ওই মামলায় তিনি জামিন পেলেও পরদিন কারাগারের গেট থেকেই তাঁকে ফের অন্য একটি মামলায় গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়। বারবার গ্রেফতার ও কারাবাসে তাঁর মানসিক ও শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয় বলে দাবি করেন রোকেয়া।
তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং কারাগারে মানসিক নির্যাতন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁদের দুই অল্পবয়সি সন্তান পিতৃহারা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নুর ইসলামের মৃত্যুকে আওয়ামী লীগ নাগরিকদের বিরুদ্ধে চলমান ‘গণহত্যা’র একটি গুরুতর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দলের দাবি, নুর ইসলাম কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হননি, অথচ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ আরও অভিযোগ করেছে, শুধুমাত্র দলীয় পরিচয়ের কারণে পুলিশ তাঁকে নির্বিচারে আটক করে চট্টগ্রাম কারাগারে ৩০ দিনেরও বেশি সময় আটকে রাখে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থাতেও তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়নি এবং মৃত্যুর আগে নির্যাতন করা হয়েছে বলে দলের অভিযোগ।
দলের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, জামিন না দেওয়া, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা এবং কারাগারের ভিতরে দলীয় কর্মীদের ওপর নির্যাতন—এসব ঘটনা রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন করার অংশ হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনকে রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে আওয়ামী লীগ।
দলটির আরও অভিযোগ, কারাগারের ভিতরে রাজনৈতিক কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলছে।
—আইএএনএস



















