রায়চুর (কর্ণাটক), ৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কর্ণাটকে বিজেপির ‘বল্লারি চলো’ পদযাত্রা বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে পড়ল। এদিন রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা বিধায়ক বি.ওয়াই. বিজয়েন্দ্র কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ফের সরব হন। তাঁর অভিযোগ, দলিতদের কল্যাণে বরাদ্দ অর্থ গ্যারান্টি প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কৃষকদের ক্রমবর্ধমান দুর্দশা মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ বলেও দাবি করেন তিনি।
রায়চুরে পদযাত্রার তৃতীয় দিনের সূচনা করে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিজয়েন্দ্র বলেন, বিজেপির এই কর্মসূচি গোটা রাজ্যে নজর কেড়েছে। সরকারের কথিত ব্যর্থতা ও দুর্নীতির পাশাপাশি কৃষক এবং সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলি তুলে ধরাই এই পদযাত্রার মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
বিজয়েন্দ্রের অভিযোগ, কংগ্রেস দলিত ও পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়কে শুধুমাত্র ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, দলিতদের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ এসসিএসপি-টিএসপি তহবিল গ্যারান্টি প্রকল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বুধবার দলিত নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। দলিত উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ অর্থ শুধুমাত্র তাঁদের কল্যাণেই ব্যবহার করার দাবি জানান তিনি।
কৃষকদের পরিস্থিতি নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, গত তিন বছরে কর্ণাটকে ৩,৬৫৫ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। এর মধ্যে কল্যাণ কর্ণাটক অঞ্চলে ৯৩৭ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কালাবুরাগি জেলায় ২৯৫, রায়চুরে ১৬৯, বিদারে ২২০ এবং কোপ্পালে ৮০-র বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেছেন।
বিজয়েন্দ্র বলেন, এই পরিসংখ্যান সরকারের ‘কৃষক-বিরোধী’ মনোভাবের প্রতিফলন। কালাবুরাগি জেলায় ২৯৫ জন কৃষকের আত্মহত্যার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কৃষকদের দুর্দশার প্রতি সরকারকে আরও সংবেদনশীল হওয়ারও দাবি জানান বিজেপি নেতা।
খরা-কবলিত এলাকায় কৃষকদের অবিলম্বে ত্রাণ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিজয়েন্দ্র ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ফসলি ঋণ মকুবের আহ্বান জানান। তাঁর দাবি, রাজ্যের ১৯০টিরও বেশি তালুকে খরা পরিস্থিতির মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে।
এছাড়া ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কেনা ভুট্টার বাবদ কৃষকদের প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এই অর্থ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি দুগ্ধচাষিদের প্রাপ্য প্রণোদনার অর্থও অবিলম্বে দেওয়ার দাবি জানান।
বিজয়েন্দ্র বলেন, বি.এস. ইয়েদিয়ুরাপ্পা মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন দুধ উৎপাদকদের প্রণোদনা দেওয়া হতো। বর্তমানে সেই প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, এর ফলে রাজ্যের কৃষক ও দুগ্ধচাষিদের জীবন আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।
কৃষকদের সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনার জন্য কর্ণাটক বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকারও দাবি জানিয়েছেন বিজয়েন্দ্র। কৃষি সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য বিধানসভায় বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
একইসঙ্গে তুঙ্গভদ্রা বাঁধের পলি অপসারণের কাজ দ্রুত করার দাবি জানান তিনি। জল সংরক্ষণের ক্ষমতা বাড়াতে নাভালি জলাধার প্রকল্পকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিজেপি সভাপতি।
কেপিসিসি সভাপতি আর.বি. হরিপ্রসাদ কংগ্রেস কর্মীদের বিজেপির পদযাত্রায় কালো পতাকা দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন বলে যে খবর রয়েছে, তা নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান বিজয়েন্দ্র। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির প্রতিবাদ আটকানোর চেষ্টা না করে সরকারের উচিত কৃষকদের সমস্যার দিকে নজর দেওয়া।
তিনি বলেন, বিজেপির পদযাত্রা বন্ধ করতে চাইলে তা করা যেতে পারে, কিন্তু তার আগে কৃষকদের সমস্যার জবাব দিতে হবে। হরিপ্রসাদ এবং ডি.কে. শিবকুমারের উদ্দেশে কৃষকদের চোখের জল মুছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিজয়েন্দ্র বলেন, কৃষকরা আত্মহত্যা করছেন এবং কৃষক সমাজ গভীর সংকটে রয়েছে।
বিজয়েন্দ্রের দাবি, এই সমস্যাগুলির সমাধান করা সরকারের দায়িত্ব এবং মানুষ গোটা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে। উপযুক্ত সময়ে জনগণই এর জবাব দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
—আইএএনএস



















