নয়াদিল্লি, ২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পঞ্জাবে ‘ট্রান্সফার র্যাকেট’ নিয়ে ভগবন্ত মান সরকারকে তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি। দলের অভিযোগ, পঞ্জাবে শীর্ষ আমলাদের বদলি ও পদায়ন নির্দিষ্ট ‘রেট কার্ড’ অনুযায়ী করা হচ্ছে এবং মধ্যস্থতাকারী ও দালালরাই অফিসারদের বদলি-পদায়নের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
বুধবার বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে দলের জাতীয় মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া দাবি করেন, মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের নজরদারিতেই এই কাজ চলছে এবং এর পিছনে ‘কিংপিন’ অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আশীর্বাদ রয়েছে।
বিজেপি নেতার অভিযোগ, মান সরকারের আমলে মধ্যস্থতাকারী ও দালালদের প্রভাব অত্যন্ত বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত এক অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি)-র সঙ্গে সমন্বয় করেই অফিসারদের বদলি ও পদায়ন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সম্প্রতি পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর দেওয়া একটি তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতেই বিজেপির এই আক্রমণ। ইডি আদালতে দাবি করেছে, ভগবন্ত মানের দফতরের ওএসডি রাজবীর সিং গৌতম আইএএস ও আইপিএস-সহ বিভিন্ন আধিকারিকের বদলি-পদায়ন সংক্রান্ত কথিত চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এই বিষয়ে পঞ্জাব কর্তৃপক্ষকে পাঠানো একাধিক চিঠি, রিমাইন্ডার এবং অন্যান্য নথিও আদালতে পেশ করেছে ইডি।
গৌরব ভাটিয়া ইডির বক্তব্য উল্লেখ করে দাবি করেন, তদন্তকারী সংস্থা পঞ্জাব পুলিশকে সাতটি চিঠি পাঠালেও পুলিশ এফআইআর দায়ের করেনি। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলি আমলযোগ্য অপরাধের আওতায় পড়লেও পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি।
ভাটিয়া বলেন, ভগবন্ত মান এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল দুর্নীতির প্রতীকে পরিণত হয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সততা ও পরিশ্রমের জন্য পরিচিত পঞ্জাবকে ভগবন্ত মান সরকার ‘দালালি ও কমিশনের কেন্দ্রে’ পরিণত করেছে।
বিজেপি মুখপাত্র দাবি করেন, আইএএস ও আইপিএস অফিসারদের বদলি ও পদায়ন ‘রেট কার্ড’ অনুযায়ী করা হচ্ছে এবং ওএসডির নির্দেশেই এই প্রক্রিয়া চলছে।
দিল্লির আবগারি নীতি সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ টেনে ভাটিয়া বলেন, দিল্লিতে আগের এএপি সরকারের সময়ও একই ধরনের মডেল চালু ছিল। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করার জন্য সেখানকার মানুষ সেই সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভাটিয়ার আরও অভিযোগ, দালালরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বিভিন্ন চ্যানেল তৈরি করেছে এবং নির্দিষ্ট ‘রেট কার্ড’-এর ভিত্তিতে আধিকারিকদের পদায়নের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। এমনকি রাজ্য সরকারের গোপন তথ্যও মধ্যস্থতাকারীদের মোবাইল ফোনে পৌঁছে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বিজেপি নেতা ভগবন্ত মান সরকারকে এই বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানান। একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগও দাবি করেন তিনি। ভাটিয়া প্রশ্ন তোলেন, মুখ্যমন্ত্রীর অজ্ঞাতে কীভাবে একজন ওএসডি ২০-র বেশি শীর্ষ আমলার বদলি ও পদায়নের অনুমতি দিতে পারেন? তাঁর দাবি, এর মধ্যে ‘যোগসাজশ’-এর ইঙ্গিত রয়েছে।
‘ট্রান্সফার-পোস্টিং র্যাকেট’ নিয়ে এফআইআর দায়ের করতে প্রশাসনের অনীহা মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে সন্দেহ আরও বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন ভাটিয়া। তাঁর দাবি, দিল্লির মতোই খুব শিগগির পঞ্জাবের মানুষ এএপি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেবে।
























