নয়াদিল্লি, ১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভিসার নির্ধারিত মেয়াদের বেশি সময় ভারতে থাকার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। মঙ্গলবার ‘অপারেশন ভিস্তা ১.০’ (ভিসা স্ট্যাটাস ভেরিফিকেশন)-এর অধীনে বিশেষ যাচাই অভিযানের সময় তাঁদের আটক করা হয়।
আটক দু’জন হলেন ২৫ বছরের জোমির হোসেন এবং ৩৯ বছরের মাকসুদা আক্তার। দু’জনই বাংলাদেশের নাগরিক।
পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনই ডাবল-এন্ট্রি ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। ওই ভিসায় প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫ দিন ভারতে থাকার অনুমতি ছিল। কিন্তু যাচাইয়ের সময় দেখা যায়, তাঁরা নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রম করে ভারতে অবস্থান করছেন এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করেছেন।
বিশেষ যাচাই অভিযানের অংশ হিসেবে সেন্ট্রাল জেলার বিভিন্ন হোটেল ও গেস্ট হাউসে তল্লাশি চালায় স্পেশাল স্টাফের ফরেনার সেল। অভিযানের সময় নবী করিমের আরাকাশান রোডের একটি হোটেলে জোমির হোসেনকে পাওয়া যায়। তিনি গত ৯ জুলাই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
এরপর পাহাড়গঞ্জের চাঁদনি ওয়ালান মেন বাজার এলাকার অন্য একটি হোটেলে তল্লাশি চালিয়ে মাকসুদা আক্তারকে পাওয়া যায়। তিনি গত ২৭ জুলাই ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
পুলিশ দু’জনের পাসপোর্ট, ভিসা এবং অন্যান্য ভ্রমণ সংক্রান্ত নথি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় ভারতে তাঁদের অবস্থান এবং ভ্রমণ নথি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়।
দিল্লি পুলিশের সেন্ট্রাল জেলার স্পেশাল স্টাফের ফরেনার সেলের একটি বিশেষ দল এই অভিযান চালায়। দলের নেতৃত্বে ছিলেন সেন্ট্রাল জেলার স্পেশাল স্টাফের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সন্দীপ যাদব। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন এসিপি/অপারেশনস পদম সিং রানা।
অভিযানে সাব-ইন্সপেক্টর ওমবীর সিং ত্যাগী ও সতীশ, হেড কনস্টেবল নরেন্দ্র, যোগেশ, বিকাশ ও মনীশ, কনস্টেবল লোকেশ এবং মহিলা কনস্টেবল কিরণ ছিলেন।
যাচাইয়ের পর দু’জনকেই পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসে (এফআরআরও) হাজির করা হয়। পরে এফআরআরও তাঁদের দিল্লির সরাই রোহিলার শাহজাদা বাগের সেবা ধাম ডিটেনশন সেন্টারে রাখার নির্দেশ দেয়।
সেই নির্দেশ অনুযায়ী দু’জন বাংলাদেশি নাগরিককে ডিটেনশন সেন্টারে রাখা হয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সেখানেই থাকবেন।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল জেলার বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের ভিসার বৈধতা ও নিয়ম মেনে অবস্থান যাচাইয়ের জন্য এই অভিযান চালানো হয়েছে।
—আইএএনএস



















