তাসখন্দ, ৩০ আগস্ট (আইএএনএস): উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে তাসখন্দে অনুষ্ঠিত বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলি রবিবার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৈঠকে ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্ককে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ বা বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্য ৫০০ কোটি ডলারের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, তাসখন্দে প্রেসিডেন্ট মির্জিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের মধ্যে রয়েছে ভারত-উজবেকিস্তান সম্পর্ককে বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত করা, ২০৩০ সালের মধ্যে বাণিজ্য ৫০০ কোটি ডলারের বেশি বৃদ্ধি করা এবং পরিকাঠামো, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি ও মহাকাশ ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানো।
এর পাশাপাশি বাজারে প্রবেশাধিকার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাংকিং ও পেমেন্ট ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকেও বৈঠকের পর একাধিক সমঝোতাপত্র ও চুক্তির কথা জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উজবেকিস্তান সফর নিয়ে আয়োজিত বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ জানান, ভারতে দীর্ঘমেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহের ব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে উজবেকিস্তানে ভারতের ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস চালুর বিষয়টিও উঠে এসেছে। এর ফলে উজবেকিস্তানে ভারতীয় ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামোর ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত হবে এবং দুই দেশের মধ্যে ডিজিটাল লেনদেন সহজতর হবে।
খনি ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্যও একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভারতের খনি মন্ত্রক এবং উজবেকিস্তানের খনি শিল্প ও ভূতত্ত্ব মন্ত্রকের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারক-তে ভূতত্ত্ব ও খনিজ সম্পদ, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং ইউরেনিয়াম সরবরাহ সংক্রান্ত সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উজবেকিস্তানের তেরমেজে অবস্থিত প্রাচীন বৌদ্ধ ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা ফায়াজ টেপা ও কারা টেপার সংরক্ষণ এবং পুনরুদ্ধারের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এবং উজবেকিস্তানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংস্থার মধ্যে একটি ‘লেটার অব ইনটেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়েছে।
আয়ুর্বেদ এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতির ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য ভারত ও উজবেকিস্তান সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতাপত্রও স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা ব্যবস্থায় দুই দেশের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ আরও বাড়বে।
কূটনৈতিক প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার করা হয়েছে। ভারতের সুষমা স্বরাজ ইনস্টিটিউট অব ফরেন সার্ভিস এবং উজবেকিস্তানের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ার্ল্ড ইকোনমি অ্যান্ড ডিপ্লোমেসির ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমির মধ্যে একটি সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে।
পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও দুই দেশ সহযোগিতার পথে এগিয়েছে। ভারতের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রক এবং উজবেকিস্তানের ন্যাশনাল কমিটি অন ইকোলজি অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জের মধ্যে পরিবেশ সংরক্ষণে সহযোগিতার বিষয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে।
ভারত ও উজবেকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের নতুন পর্বে বাণিজ্য, ডিজিটাল প্রযুক্তি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি, মহাকাশ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, স্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং কূটনৈতিক প্রশিক্ষণের মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।



















