পাটনা, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): তফসিলি জাতি (এসসি) ও তফসিলি উপজাতি (এসটি) সংরক্ষণ নিয়ে বিহারে এনডিএ-র শরিকদের মধ্যে মতপার্থক্য শনিবার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। সংরক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের দাবিতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জিতন রাম মাঁঝি এবং তাঁর ছেলে তথা রাজ্যের মন্ত্রী সন্তোষ সুমনের অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ান।
এসসি-এসটি সংরক্ষণে ‘ক্রিমি লেয়ার’ ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আপত্তি জানিয়ে চিরাগ বলেন, যাঁরা এমন পরিবর্তনের দাবি করছেন, তাঁদের আগে নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, সংরক্ষণ ব্যবস্থা অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতে তৈরি হয়নি; বরং শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা সামাজিক বৈষম্য, বঞ্চনা ও অস্পৃশ্যতার মোকাবিলার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।
চিরাগের মতে, সংরক্ষণ ব্যবস্থার কাঠামো পরিবর্তনের যে কোনও প্রস্তাব অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। তাই রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংসদে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়া উচিত।
অন্যদিকে, জিতন রাম মাঁঝি ও সন্তোষ সুমন এসসি-এসটি সংরক্ষণে উপ-শ্রেণিবিন্যাস এবং ‘কোটার মধ্যে কোটা’ চালুর দাবি জানিয়ে আসছেন। তাঁদের যুক্তি, সংরক্ষণের সুবিধা সব সম্প্রদায়ের কাছে সমানভাবে পৌঁছয়নি। সন্তোষ সুমন স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের দাবি সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার জন্য নয়, বরং বঞ্চিত গোষ্ঠীগুলিকে তাঁদের ন্যায্য অংশ নিশ্চিত করার জন্য।
এর পাল্টা চিরাগ বলেন, অর্থনৈতিক অবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে সংরক্ষণকে দেখলে এর মূল উদ্দেশ্যই দুর্বল হয়ে যেতে পারে। সংরক্ষণ ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তনের আগে বৃহত্তর সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিতর্কের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে কংগ্রেসকেও নিশানা করেন চিরাগ। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং তাঁর দলের দীর্ঘদিনের শাসনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, দেশে এখনও যদি সামাজিক বৈষম্য থেকে থাকে, তাহলে তার দায় কংগ্রেসকেও নিতে হবে।
বিহারের দলিত রাজনীতির ক্ষেত্রে এই মতপার্থক্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। চিরাগ পাসওয়ান এবং মাঁঝি-সুমন শিবির—দুই পক্ষই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থরক্ষার দাবিদার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরতে চাইছে। কিন্তু সংরক্ষণ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সংবেদনশীল সংরক্ষণ ইস্যুতে এনডিএ-র শরিক দলগুলি শেষ পর্যন্ত অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছতে পারে কি না, নাকি বিহারের রাজনীতিতে এই মতপার্থক্য আরও গভীর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
_______



















