কেপটাউন, ২৯ আগস্ট (আইএএনএস): বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান প্রভাব আরও ভারসাম্যপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার দিকে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ব্রিকস সম্মেলন জলবায়ু ক্ষেত্রে আরও গভীর সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় বিশ্বব্যাপী স্থিতিস্থাপকতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এবারের সম্মেলনের আয়োজক ভারত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশ হওয়ার লক্ষ্য—‘বিকশিত ভারত’—এই সম্মেলনের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ভারতের এই আকাঙ্ক্ষা অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলির ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ন্যাশনাল’-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলির নেতারা একত্রিত হবেন। সম্মেলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে কৃষিক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং দুর্যোগের ঝুঁকি কমিয়ে স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি।
উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলিতে খরা, বন্যা, তাপপ্রবাহ ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো জলবায়ুজনিত ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এর ফলে পরিকাঠামো, খাদ্য নিরাপত্তা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই সমন্বিত দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কাঠামো এবং স্থানীয় মুদ্রায় জলবায়ু অর্থায়নের কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিকস দেশগুলি ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সবুজ শক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে। ভারতের আয়োজনে হতে চলা সম্মেলনে জলবায়ু সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু সংক্রান্ত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন শুধু নির্গমন কমানোর গতি নিয়ে আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবসম্মত অভিযোজনমূলক পদক্ষেপের দিকে সরে যাচ্ছে।
এর আগে ব্রিকসের বিভিন্ন সম্মেলনেও জলবায়ু সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। ২০১৫ সালে রাশিয়ার উফায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সদস্য দেশগুলি বৈশ্বিক ও জাতীয়—উভয় স্তরেই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল। এছাড়া রিও ডি জেনেইরোতে অনুষ্ঠিত ১৭তম সম্মেলনে ব্রিকস নেতারা জলবায়ু অর্থায়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং বৃহত্তর ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ এজেন্ডা’ গ্রহণ করেছিলেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রিকস দেশগুলিতে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে রূপান্তর দ্রুত এগোচ্ছে। বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সংখ্যা পরিকল্পনাধীন জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তবে এই রূপান্তরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌথ আর্থিক কাঠামোর ঘাটতি রয়েছে।
ভারতের ব্রিকস সভাপতিত্বে সেই ঘাটতি পূরণের পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের গতি আরও বাড়ানোর জন্য একটি যৌথ আর্থিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে বলে প্রতিবেদনে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
ভারত তিনটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাকে দ্রুত বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নিতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, ব্রিকসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির তৈরি ব্লকচেইন-ভিত্তিক মাল্টি-সিবিডিসি প্ল্যাটফর্ম ‘প্রজেক্ট ব্রিজ’-এর পরিধি বাড়িয়ে জলবায়ু অর্থায়ন লেনদেনের ক্ষেত্রে সেটিকে ব্যবহার করা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের জলবায়ু প্রকল্পগুলিতে উপসাগরীয় দেশগুলির সার্বভৌম সম্পদ তহবিলের সহ-বিনিয়োগ কৌশলগতভাবে ব্যবহারের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নিতে পারে ভারত।
তৃতীয়ত, ব্রিকসের বিভিন্ন মুদ্রায় রুপি বন্ড কর্মসূচিকে আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেওয়া যেতে পারে। ভারতের বৃহৎ পরিসরে কম খরচের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়ে তোলার অভিজ্ঞতা এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।



















