কলকাতা, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): বর্তমান বিজেপি সরকারের ‘অত্যাচার’ এবং অতিরিক্ত বাড়াবাড়িই আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে ফের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে বলে দাবি করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার কলকাতার কেন্দ্রে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বলেন, “কাজ করবেন না। বিজেপির সাধারণ কর্মীরাই খুব শিগগির দলের নেতৃত্বকে শিক্ষা দেবেন। খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস আবার ক্ষমতায় ফিরবে।”
বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, তৃণমূলের সভা ও মিছিল করতে পুলিশ অনুমতি দিচ্ছে না। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী দিনে তিনি বিভিন্ন জেলায় গিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি করবেন।
মমতা বলেন, “পুলিশ অনুমতি না দিলে মানুষের অনুমতি নিয়ে কর্মসূচি করব। কিন্তু আর কলকাতা হাইকোর্টে অনুমতির জন্য গিয়ে আদালতের সময় নষ্ট করব না। প্রয়োজনে মাইলের পর মাইল হাঁটব। তারপর দেখব, ওরা কী করে।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল দলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ’ গোষ্ঠী এবং সম্প্রতি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-তে যোগ দেওয়া প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদদের সমালোচনা।
অভিষেক তাঁদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানান, ভবিষ্যতে যেন তাঁদের তৃণমূলে আর ফিরিয়ে না নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের একটি বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড সরানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক নিয়েও রাজ্য প্রশাসন ও বিজেপিকে নিশানা করেন অভিষেক।
তিনি অভিযোগ করেন, গতকাল বেআইনিভাবে আমাদের দলীয় কার্যালয়ের বিলবোর্ড ও সাইনবোর্ড সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জন্য কলকাতা পুলিশের পুরো বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল। বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, “যতটা হিংসা সহ্য করা যায়, ততটাই করুন।” তাঁর বক্তব্যে আগামী দিনে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিতও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


















