নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ আগস্ট: ত্রিপুরামুখী নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ পাচারের অভিযোগে বড়সড় সাফল্য পেল অসমের বাজারিছড়া থানার চুরাইবাড়ি পুলিশ। নিয়মিত যানবাহন তল্লাশির সময় একটি দশ চাকার কন্টেনার ট্রাক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১২০০ বোতল ‘এসকফ’ কাশির সিরাপ। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া সিরাপের কালোবাজারি মূল্য প্রায় ১২ লক্ষ টাকা। এই ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে অসম-ত্রিপুরা সীমান্তের চুরাইবাড়ি পুলিশ ওয়াচ পোস্টে নিয়মিত যানবাহন তল্লাশি চলছিল। সেই সময় গুয়াহাটি থেকে আগরতলাগামী ডব্লিউবি – ১১- এফ -৯৭১৭ নম্বরের একটি দশ চাকার কন্টেনার ট্রাককে সন্দেহ হওয়ায় আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় ট্রাকের অন্যান্য পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা চারটি সন্দেহজনক কাঠের বাক্স নজরে আসে পুলিশের। বাক্সগুলি খুলতেই উদ্ধার হয় ১২০০ বোতল ‘এসকফ’ কাশির সিরাপ। পুলিশের সন্দেহ, বেআইনিভাবে বিতরণের উদ্দেশ্যেই এই সিরাপ ত্রিপুরায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
ঘটনার পর ট্রাকের চালকসহ আরও দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন গুয়াহাটির জোরাবাট এলাকার অমিত নেওয়ার, মেঘালয়ের নংপোহের ডনবক ল্যাং সুমার এবং মণিপুরের খাংপোকপির সঞ্জিত বুদ্ধ ছেত্রী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিনজনকেই বৃহস্পতিবার রাতে বাজারিছড়া থানায় রাখা হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। উদ্ধার হওয়া কাশির সিরাপের উৎস কোথায় এবং এর চূড়ান্ত গন্তব্য কোথায় ছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বাজারিছড়া থানার ওসি খানিন্দ্র নাথের তত্ত্বাবধানেই পুরো অভিযানটি পরিচালিত হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এনডিপিএস আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার আটক তিনজনকে জেলা সিজেএম আদালতে পেশ করা হবে।
পুলিশ আরও খতিয়ে দেখছে, এই চালানের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না এবং এর পিছনে কোনও বড়সড় পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে কি না। তদন্তের মাধ্যমে গোটা চক্রের হদিস বের করার চেষ্টা চলছে।
———


















