আগরতলা, ২৮ আগস্ট: ত্রিপুরায় মাদক কারবারের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। মাদক সংক্রান্ত কার্যকলাপে কোনও পুলিশকর্মীর জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে তাঁর বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে শুক্রবার বিধানসভায় স্পষ্ট জানালেন মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা।
বিধানসভা অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়ের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে এনডিপিএস আইনে নথিভুক্ত মামলায় দোষী সাব্যস্তের হার বেড়ে ১৪.৭ শতাংশ হয়েছে।
গোপাল চন্দ্র রায় রাজ্যে ক্রমবর্ধমান মাদক কারবার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, নেশার কারণে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নষ্ট হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর কেউ যদি মাদক কারবারের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তাহলে কীভাবে বড় মাদক চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। মাদক কারবারে জড়িত পুলিশকর্মীদের কতজন আটক, গ্রেফতার বা চার্জশিটভুক্ত হয়েছেন এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কতগুলি এফআইআর হয়েছে, তারও বিস্তারিত তথ্য জানতে চান তিনি।
জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, মাদক পাচার ও সেবন রুখতে পুলিশ, বিএসএফ-সহ একাধিক সংস্থাকে নিয়ে সরকার একযোগে কাজ করছে। মাদক কারবারের ক্ষেত্রে সরকার কোনওভাবেই আপস করবে না বলেও স্পষ্ট করেন তিনি। একইসঙ্গে মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি চালানোর পাশাপাশি মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাইরে থেকেও ত্রিপুরায় সিন্থেটিক মাদক ঢুকছে। উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লির মতো রাজ্যের কয়েকজনকে মাদক পাচারের মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এনডিপিএস মামলায় দোষী সাব্যস্তের হার আরও বাড়ানোর ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান মানিক সাহা। তদন্ত ও মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও সমন্বয় বাড়াতে সরকারি কৌঁসুলি এবং সহকারী সরকারি কৌঁসুলিরা পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করছেন বলেও জানান তিনি।
মাদক সেবনকারী এবং ছোটখাটো মাদক বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নাবালকরা মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি বৃহত্তর মাদক চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।
পুলিশের একাংশের মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পুলিশকর্মী জড়িত থাকলেও সরকার কোনও আপস করবে না এবং আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে মাদক সেবন ও পাচার উভয়ই বন্ধ করতে সরকারের অভিযান ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে চলবে।



















