শ্রীনগর, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): পবিত্র ‘ছড়ি মুবারক’ বা ভগবান শিবের পবিত্র গদা শুক্রবার শ্রী অমরনাথজি গুহা মন্দিরে পৌঁছনোর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হল ২০২৬ সালের অমরনাথ যাত্রা। রাখিবন্ধন উৎসবের দিন চূড়ান্ত পুজোর মধ্য দিয়ে ৫৭ দিনের এই তীর্থযাত্রার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বার্ষিক অমরনাথ যাত্রার যাবতীয় ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা শ্রী অমরনাথজি শ্রাইন বোর্ড (এসএএসবি)-এর আধিকারিকরা জানান, উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহার নেতৃত্বাধীন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে এ বছরের যাত্রা শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। পবিত্র গুহায় শেষ প্রথাগত পুজো এবং ‘ছড়ি মুবারক’ পৌঁছনোর পরই যাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
পবিত্র ছড়ির রক্ষক মহন্ত দীপেন্দ্র গিরি ৩,৮৮০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত গুহা মন্দিরে সকালে প্রার্থনা ও বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণে নেতৃত্ব দেন। এরপর উপরাজ্যপাল মনোজ সিনহা ‘সমাপন পুজো’য় অংশ নেন। যাত্রা সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য তিনি নিরাপত্তা বাহিনী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের পরিষেবার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
এসএএসবি-র হিসাব অনুযায়ী, এ বছর উত্তর কাশ্মীরের ঐতিহ্যবাহী পাহলগাম বেস ক্যাম্প এবং তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত বালতাল বেস ক্যাম্প রুট দিয়ে ৪.৮০ লক্ষেরও বেশি পুণ্যার্থী অমরনাথ দর্শন করেছেন।
এবারের যাত্রা কোনও সন্ত্রাসবাদী ঘটনার ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল নজিরবিহীন। এমনকি এ বছর হেলিকপ্টার পরিষেবাও অনুমোদিত হয়নি।
তবে উচ্চতাজনিত অসুস্থতা এবং হৃদ্যন্ত্র বিকল হয়ে যাওয়ার কারণে এ বছরের যাত্রায় ৪২ জন পুণ্যার্থীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যাত্রার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলেও আগামী ৩০ আগস্ট পাহলগামের লিডার নদীতে পবিত্র ছড়ি মুবারকের প্রত্যাবর্তন যাত্রা এবং ঐতিহ্যবাহী বিসর্জন বা ‘বিসর্জন’ অনুষ্ঠান হবে।
উল্লেখ্য, ৯ আগস্ট থেকে প্রবল বৃষ্টি, মেঘভাঙা বৃষ্টি এবং ভূমিধসের কারণে উভয় বেস ক্যাম্প রুটে পুণ্যার্থীদের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে ক্ষতিগ্রস্ত পথগুলির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করা হয়।
দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার কাশ্মীর হিমালয়ে অবস্থিত পবিত্র অমরনাথ গুহায় একটি বরফের স্তম্ভ রয়েছে। চাঁদের বিভিন্ন কলার সঙ্গে এই বরফের স্তম্ভের আকার বাড়ে ও কমে বলে বিশ্বাস করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই বরফের স্তম্ভ ভগবান শিবের পৌরাণিক শক্তির প্রতীক।























