গান্ধীনগর, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): চলতি নজরদারি পর্বে গুজরাটে এখনও পর্যন্ত ৪২টি ল্যাবরেটরি-নিশ্চিত চাঁদিপুরা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য থেকে এই পরিসংখ্যান জানা গেছে।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন থেকে শুরু হওয়া বর্তমান নজরদারি পর্বে রাজ্যে মোট ৩২৪টি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনা রিপোর্ট হয়েছে। এর মধ্যে ১০টি নমুনার পরীক্ষার ফল এখনও অপেক্ষমাণ।
২৭ আগস্ট বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৩২৪টি সন্দেহভাজন ঘটনার মধ্যে ৩১৪টি নমুনার পরীক্ষার ফল হাতে এসেছে। পরীক্ষিত নমুনার মধ্যে ৪২টি চাঁদিপুরা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে। নিশ্চিত আক্রান্তদের মধ্যে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর হার প্রায় ৬৬.৭ শতাংশ।
চলতি মাসের শুরুতে প্রকাশিত পরিসংখ্যানের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। ১৪ আগস্ট পর্যন্ত গুজরাটে ২৫৭টি সন্দেহভাজন ঘটনা, ৪১টি নিশ্চিত সংক্রমণ এবং ২৭টি মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছিল। তখন ১১টি নমুনার পরীক্ষার ফল অপেক্ষমাণ ছিল।
চাঁদিপুরা ভাইরাস একটি আর্বোভাইরাস, যা তীব্র এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। এই ভাইরাসে বিশেষ করে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল-এর তথ্য অনুযায়ী, বালিমাছি বা স্যান্ডফ্লাইয়ের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায় এবং দ্রুতগতিতে এনসেফালাইটিস বা এনসেফালোপ্যাথি তৈরি করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগে মৃত্যুর হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
গুজরাটে এর আগেও চাঁদিপুরা ভাইরাসের বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে। ২০২৪ সালের প্রাদুর্ভাবের সময় এনসিডিসি রাজ্যের নজরদারি ও রোগ মোকাবিলা ব্যবস্থাকে সহায়তা করতে বহুবিভাগীয় দল পাঠিয়েছিল। দলটি রোগের বিস্তার সংক্রান্ত তদন্তের পাশাপাশি সম্ভাব্য বাহক শনাক্ত করতে কীটতাত্ত্বিক নজরদারিও চালায়।
বর্তমান নজরদারি পর্বে বর্ষার সময় থেকেই আক্রান্তের ঘটনা সামনে আসতে শুরু করে। চলতি মাসের গোড়ায় স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছিল, বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে আক্রান্তদের পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা চলছে। সে সময় রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পাংশেরিয়া বলেছিলেন, কোনও একটি নির্দিষ্ট গ্রামে সংক্রমণ সীমাবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন এলাকা থেকে আক্রান্তের খবর আসছে।
আরও ১০টি নমুনার পরীক্ষার ফল এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে সেগুলির ফল প্রকাশের পর নিশ্চিত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। চাঁদিপুরা ভাইরাস শনাক্ত করতে পরিমাণগত পিসিআর -সহ বিভিন্ন ল্যাবরেটরি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।



















