মুম্বই, ২৮ আগস্ট (আইএএনএস): কৈলাস মানস সরোবর যাত্রা শেষে তিব্বতের সাগায় আটকে পড়া মহারাষ্ট্রের ৩৭ জন তীর্থযাত্রী নিরাপদে কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। শুক্রবার মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ জানিয়েছেন, নায়লাম চেকপোস্ট হয়ে তাঁরা কাঠমান্ডুর পথে যাত্রা শুরু করেছেন।
মহারাষ্ট্র মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (সিএমও) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, থানে, পুণে, আলিবাগ, রায়গড় এবং ডোম্বিভলির ৩৭ জন বাসিন্দা কৈলাস মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাঁরা সাগায় আটকে পড়েন।
তীর্থযাত্রীদের কাঠমান্ডু থেকে ২৯ আগস্ট দুপুর ২টায় ফেরার বিমান ধরার কথা রয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের কাঠমান্ডু পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশ অবিলম্বে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন। এরপর সাগা থেকে কাঠমান্ডু পর্যন্ত তাঁদের নিরাপদ যাত্রার ব্যবস্থা করা হয়।
সিএমও-র পক্ষ থেকে ওই ৩৭ জন তীর্থযাত্রীর তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী আটকে পড়া নাগরিকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের নিরাপদে ফেরানোর জন্য সবরকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন।
এদিকে নাগপুরের ১০৬ জন যাত্রীও নিরাপদে কাঠমান্ডু থেকে বিহারের দানাপুরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশের ফোনের পর নেপালের সাংসদ সন্দীপ রানা তাঁদের কাঠমান্ডু থেকে জনকপুর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার জন্য চারটি স্থানীয় মিনিবাসের ব্যবস্থা করেন। যাত্রীরা শনিবার সকালে জনকপুর-বিহার সীমান্তে পৌঁছানোর কথা। সেখান থেকে তাঁদের দানাপুর নিয়ে যাওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং দানাপুর থেকে ট্রেনে ফেরার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে জানিয়েছেন, রাজ্যের বেশ কয়েকজন নাগরিক, বিশেষ করে সাতারা, মহাবলেশ্বর এবং পুণে এলাকার বাসিন্দারা নেপালে আটকে রয়েছেন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদে মহারাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার জন্য ধারাবাহিকভাবে চেষ্টা চলছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বেশ কয়েকজন আটকে পড়েছেন এবং কয়েকজনের এখনও সন্ধান চলছে বলেও জানান তিনি।
কাঠমান্ডুর কাছে পোখারায় আটকে থাকা শিবসেনার ডেপুটি জেলা প্রধান মেঘা চোরগে এবং তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন শিন্ডে। তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
নেপালের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করে উপমুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় স্তরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। সংকটের সময় একে অপরকে সহযোগিতা করা দায়িত্ব বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার, মহারাষ্ট্র সরকার, রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ এবং শিবসেনার বিপর্যয় মোকাবিলা দল সমন্বয় করে কাজ করছে।
নেপালে থাকা শিবসেনা কর্মীদের মাধ্যমে মহারাষ্ট্রের আটকে পড়া নাগরিকদের কাছে পৌঁছে তাঁদের সহায়তা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। নেপালের বন্যা পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে শিবসেনার বিপর্যয় মোকাবিলা ব্যবস্থাও সক্রিয় করা হয়েছে। যুবসেনার রাহুল কানালসহ বেশ কয়েকজন শিবসেনা কর্মী উদ্ধার ও সহায়তা অভিযানে যোগ দিতে নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।



















