আগরতলা, ২৭ আগস্ট: আগরতলা শহরের পানীয় জলের সমস্যা ও জলের গুণমান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই শহরে দুটি নতুন জল শোধনাগার তৈরির পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ত্রিপুরা সরকার। ইতিমধ্যে প্রকল্পগুলির কাজের বরাত দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা।
কংগ্রেস বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় ও সুদীপ রায় বর্মনের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, নেতাজি আদর্শ শিক্ষা মন্দিরে প্রতিদিন ৫৫০ লক্ষ লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন ভূগর্ভস্থ জল শোধনাগার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি কলেজ টিলায় প্রতিদিন ৬৪১ লক্ষ লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরি হবে। নেতাজি আদর্শ শিক্ষা মন্দিরের প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুলাই এবং কলেজ টিলার প্রকল্পটি ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগরতলা শহরে মোট ১,৪৪,৭৫২টি পরিবার রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৯২,৫৯০টি পরিবারে পানীয় জলের সংযোগ পৌঁছেছে। অর্থাৎ শহরের ৬৪.৭৮ শতাংশ পরিবার বর্তমানে জল পরিষেবার আওতায় রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য ১০০ শতাংশ পরিবারকে জল সংযোগের আওতায় আনা।
আগরতলা শহরে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি লিটার জলের প্রয়োজন হয়। সরাসরি জল সংযোগ না থাকা পরিবারগুলির অনেকে রাস্তার ধারের হাইড্র্যান্ট এবং ব্যক্তিগত টিউবওয়েলের ওপর নির্ভর করেন।
বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানীয় জলের ঘাটতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন। বহু বাসিন্দা পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিশোধিত পানীয় জল পাচ্ছেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পাশাপাশি নতুন প্রকল্পগুলি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
জলের উৎস সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে আগরতলার মোট জল সরবরাহের প্রায় ২৫ শতাংশ আসে হাওড়া নদী থেকে। বাকি ৭৫ শতাংশ ভূগর্ভস্থ জল থেকে সংগ্রহ করা হয়। তাঁর দাবি, ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলনের হার বর্তমানে ৬১.৩ শতাংশ, যা কেন্দ্রীয় ভূগর্ভস্থ জল পর্ষদের নির্ধারিত ৭০ শতাংশ সীমার নিচে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, আগরতলায় বর্তমানে ১৩টি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ৩৬টি পরিবর্তিত আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট, ৬টি প্যাকেজ ধরনের আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট এবং ৭৭টি ডিপ টিউবওয়েল রয়েছে। প্রতিদিন জল শোধনাগারের পরীক্ষাগারে জলের গুণমান পরীক্ষা করা হয়। প্রশিক্ষিত স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরাও ফিল্ড টেস্ট কিটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি জল পরীক্ষা করেন।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের(এডিবি) সহায়তায় দুটি সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ১৭টি পরিবর্তিত আয়রন রিমুভাল প্ল্যান্ট এবং একাধিক ডিপ টিউবওয়েল তৈরির প্রকল্পও চলছে বলে বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী। ভূগর্ভস্থ জলের ওপর নির্ভরতা কমাতে হাওড়া নদীর ওপর চেক ড্যাম, পিক-আপ উইয়ার ও মিনি ব্যারাজ তৈরির পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সারফেস ওয়াটারের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
জলের দূষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন ভূগর্ভস্থ ও সারফেস ওয়াটারের শোধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি সরকার নজরে রেখেছে। আগরতলার পানীয় জলের সমস্যা সমাধানে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও বিধানসভায় আশ্বাস দেন তিনি।



















