আগরতলা, ২৭ আগস্ট: ত্রিপুরা বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই জাতীয়তাবাদ ও কিউবার বিপ্লবী নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে পরিষদীয় মন্ত্রী রতন লাল নাথের মন্তব্যের পর শাসক ও বিরোধী দল সিপিএম বিধায়কদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়। উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছিল, সময়ের আগেই প্রথমার্ধের অধিবেশন মুলতবি করে দেন অধ্যক্ষ রামপদ জমাতিয়া। এদিকে, ট্রেজারী বেঞ্চ ও সিপিএমের বিধায়কদের বাদানুবাদে পরিস্থিতির মজা নিয়েছেন তিপরা মথা ও কংগ্রেসের বিধায়কগণ।
এদিন শূন্যকালে বিষয়টি উত্থাপন করেন পরিষদীয় মন্ত্রী রতন লাল নাথ। তিনি সিপিআইএম আয়োজিত ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে জিতেন্দ্র চৌধুরীর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি ওই অনুষ্ঠানে ভারতীয় জাতীয় পতাকার সঙ্গে কিউবার পতাকা প্রদর্শনের বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতার বক্তব্যের মাধ্যমে ভারতীয় জাতীয়তাবাদের ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। এরপর বিজেপি বিধায়করা জিতেন্দ্র চৌধুরীর প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি তোলেন।
রতন নাথের কথায়, দেশের খেয়ে বিদেশের গুন গাইছে সিপিএম। তাঁরা দেশবিরোধী শক্তির মদত দিচ্ছে। তাঁর কটাক্ষ, সিপিএম পাকিস্তান ও চিনের দালাল হিসেবে কাজ করছে। তাই, বিধানসভার অধ্যক্ষের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, পবিত্র বিধানসভায় রাষ্ট্রবাদী নয় রাষ্ট্রবিরোধীরা থাকবেন।
বিষয়টি নিয়ে শাসক ও বিরোধী সিপিএম বিধায়কদের মধ্যে তুমুল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে অধ্যক্ষকে বিধানসভার অধিবেশন মুলতবি করতে হয়।
পরে বিধানসভার বাইরে অভিযোগ খারিজ করে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা হয়েছে। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ভারতের ঐতিহ্যবাহী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সেইসব ব্যক্তিত্ব ও জনগোষ্ঠীকে সম্মান জানানোর কথা তিনি তুলে ধরেছিলেন, যারা মানবতার জন্য কাজ করেছেন এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন।
ফিদেল কাস্ত্রো প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা বলেন, তাঁকে দেশপ্রেম, প্রতিরোধ এবং জাতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখা যেতে পারে। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে তিনি শিকাগো ধর্মমহাসভায় স্বামী বিবেকানন্দের ভাষণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং চিকিৎসক ডা. তারকনাথ কোতনিসের উদাহরণও তুলে ধরেন।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর ভাবনার সঙ্গে ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে যুক্ত করে দেখতে হবে। তাঁর মতে, ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে সংকীর্ণ বা বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত নয়।
অনুষ্ঠানে কিউবার পতাকা প্রদর্শন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অন্য একটি দেশের পতাকা প্রদর্শন নিয়ে কেন আপত্তি তোলা হচ্ছে, সে প্রশ্ন করেন বিরোধী দলনেতা।
জিতেন্দ্র চৌধুরী আরও বলেন, বিধানসভার জিরো আওয়ারে বাইরের একটি অনুষ্ঠানের বিষয় তোলার বদলে সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা উচিত ছিল।
বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই রাজনৈতিক সংঘাত ত্রিপুরা বিধানসভায় নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে। জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিক সংহতি এবং রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহারকে কেন্দ্র করে অধিবেশনের শুরুতেই মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে শাসক ও বিরোধী শিবির।


















