আগরতলা, ২৭ আগস্ট: ত্রিপুরায় গ্রামীণ এলাকায় পরিশ্রুত পানীয় জলের সংযোগ বেড়ে ৮৬.৫২ শতাংশে পৌঁছেছে। ২০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত রাজ্যের মোট ৭ লক্ষ ৫০ হাজার ৪৪৯টি গ্রামীণ পরিবারের মধ্যে ৬ লক্ষ ৪৭ হাজার ৪৩৭টি পরিবার পরিশ্রুত পানীয় জলের সংযোগ পেয়েছে বলে বিধানসভায় জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
বৃহস্পতিবার ত্রিপুরা বিধানসভার ১৩তম বিধানসভার দশম অধিবেশনে বিজেপি বিধায়ক জহর চক্রবর্তীর তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত তিন বছরে গ্রামীণ এলাকার আরও ১ লক্ষ ৯১ হাজার ১০৬টি পরিবারকে নিরাপদ পানীয় জলের আওতায় আনা হয়েছে। একই সময়ে ১ হাজার ১৯৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত ও ভিলেজ কমিটিতেও এই পরিষেবা পৌঁছেছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট জল জীবন মিশন শুরু হওয়ার সময় ত্রিপুরায় পাইপের মাধ্যমে পানীয় জলের সংযোগ ছিল মাত্র ৩.২৪ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারের। ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত ১ লক্ষ ৫১ হাজার ১৩৫টি পরিবার এই পরিষেবার আওতায় এসেছিল।
এদিন তিপরা মথা পার্টির বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী স্বীকার করেন, এডিসি এলাকার কিছু অংশে এখনও পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। বিশেষ করে মুঙ্গিয়াকামি ব্লকের দুর্গম এলাকাগুলিতে সমস্যাটি বেশি।
তিনি বলেন, পাহাড়ি ও পাথুরে এলাকায় উপযুক্ত জলস্তর না থাকায় সেখানে প্রচলিত গভীর বা অগভীর নলকূপ বসানো কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ঝরনা ও ছড়ার জল সংগ্রহ করে উঁচু এলাকায় পাম্প করে পৌঁছে দেওয়ার মতো বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণ করছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এডিসি এলাকায় গড় পানীয় জল সংযোগের হার প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। বিভিন্ন এলাকায় এই হার ৮৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।
বাকি পরিবারগুলিকে সংযোগ দেওয়ার জন্য গভীর ও অগভীর নলকূপ, জল শোধনাগার এবং বিভিন্ন নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ চলছে বলেও জানান ডাঃ সাহা। দ্রুত রাজ্যে ১০০ শতাংশ গ্রামীণ পরিবারকে পাইপের পানীয় জলের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এলজিডি বা লোকাল গভর্নমেন্ট ডিরেক্টরি কোডের মাধ্যমে পৃথক গ্রাম চিহ্নিত করা হয়। জল জীবন মিশন ও স্বচ্ছ ভারত মিশনের মতো প্রকল্পে পানীয় জল সরবরাহ, জনসংখ্যা এবং অন্যান্য উন্নয়নমূলক তথ্যের হিসাব রাখতেও এই কোড ব্যবহার করা হয়।

















