পাটনা, ২৬ আগস্ট (আইএএনএস): নেপালে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর নিম্নধারা বা নিম্ন অববাহিকায় জলের প্রবাহ বাড়ার আশঙ্কায় সতর্ক হয়েছে ভারত। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করেছে বিহার প্রশাসন।
বুধবার নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক বন্যায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। বন্যার জেরে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর পরেই ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে পরিস্থিতির ওপর নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বাড়ানো হয়েছে।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করা হয়েছে। মুখ্যসচিব ও ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আমিও অবিলম্বে একটি বৈঠক করছি। প্রয়োজন হলে আমি নিজেই সেখানে যাব।”
নেপালে সম্ভাব্য গ্লেশিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড-এর খবর এবং বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীগুলিতে জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে পশ্চিম চম্পারণের জেলাশাসক তরনজোত সিং নেপাল সীমান্তবর্তী গ্রাম এবং গণ্ডক নদীর তীরবর্তী এলাকায় সমস্ত প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন পরিস্থিতির ওপর লাগাতার নজর রাখছে। সম্ভাব্য জলস্তর বৃদ্ধি বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত মোকাবিলার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলিকে সমস্ত প্রস্তুতি ও ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
বাসিন্দাদের সতর্ক করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে, গণ্ডক নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষজন যেন অপ্রয়োজনে নদীর কাছে না যান। কোনও গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র প্রশাসনের জারি করা সরকারি তথ্যের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জলস্তর বাড়লে বা কোনও সতর্কবার্তা জারি হলে প্রশাসনের নির্দেশ অবিলম্বে মেনে চলতেও বলা হয়েছে।
এদিকে, নেপালে আকস্মিক বন্যায় প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ তিনি বলেন, নেপালের রাসুয়া অঞ্চলে তিব্বত থেকে উৎপত্তি হওয়া ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি ও সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষতি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও উদ্বেগজনক।
দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ধামি বলেন, “এই কঠিন সময়ে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি আমাদের সমবেদনা রয়েছে। আমি ঈশ্বরের কাছে সকলের নিরাপত্তা ও মঙ্গল কামনা করি।”



















