আগরতলা, ২৫ আগস্ট: রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি স্কুলে চরম শিক্ষক সংকট দেখা দিলেও একদিকে শূন্যপদ বাতিল করা হচ্ছে এবং অন্যদিকে টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে অবিলম্বে টেট উত্তীর্ণ সকলকে শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবি জানাল অল ত্রিপুরা টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন।
আজ সংগঠনের পক্ষ থেকে মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তার কাছে পাঁচ দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। সংগঠনের সেক্রেটারি পার্থ আচার্য জানান, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট রয়েছে। অথচ প্রয়োজনের সময় বিদ্যমান শিক্ষক পদও বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, টেট উত্তীর্ণদের দ্রুত নিয়োগ করে রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া সংকট দূর করতে হবে।
এটিটিএ-র আরও দাবি, সরকারি স্কুলে বিভিন্ন প্রকল্পের নামে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় বন্ধ করতে হবে। সংগঠনের বক্তব্য, ২০০৯ সালের রাইট টু এডুকেশন আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি স্কুলে শিক্ষাকে বিনামূল্যে নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের কথা বিবেচনা করে এই বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্কুল ম্যানেজিং কমিটি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে সংগঠনটি। পার্থ আচার্যের অভিযোগ, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাপ্রেমীদের পরিবর্তে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বিভিন্ন স্কুলের ম্যানেজিং কমিটিতে যুক্ত হয়ে শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের উপর অযাচিত প্রভাব বিস্তার করছেন। শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের কাজের মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব শিক্ষা দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বলেও দাবি জানানো হয়। শিক্ষাক্ষেত্রকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে এটিটিএ।
এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর দীর্ঘদিনের কর্মরত শিক্ষকদের পুনরায় টেট পরীক্ষায় বসার বিষয়টি নিয়েও সংগঠনটি আপত্তি জানিয়েছে। পার্থ আচার্যের বক্তব্য, ১৫, ২০ বা ২৫ বছর ধরে শিক্ষকতা করা একজন অভিজ্ঞ শিক্ষককে পুনরায় পরীক্ষায় বসে চাকরি ধরে রাখার শর্ত দেওয়া অমানবিক ও অনৈতিক। এতে অভিজ্ঞ শিক্ষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষা ব্যবস্থার।
সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনারও দাবি জানানো হয়েছে। পার্থ আচার্য বলেন, সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় অংশ সরকারি স্কুলের উপর নির্ভরশীল। তাই সরকারি স্কুলের সমস্যাগুলি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এদিনের স্মারকলিপি গ্রহণ করে মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের অধিকর্তা দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান এটিটিএ-র সেক্রেটারি পার্থ আচার্য।























